চট্টগ্রাম ওয়াসার ড্রাইভার তাজুলের ‘রাজকীয়’ জীবন: পাঁচতলা বাড়ি ও কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সীমিত বেতনের সরকারি চাকরি করেও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ড্রাইভার তাজুল ইসলাম। নগরীতে পাঁচতলা আলিশান বাড়ি এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে কয়েক কোটি টাকার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন সাধারণ গাড়ি চালকের এমন ‘আলাদিনের চেরাগ’ প্রাপ্তি নিয়ে এখন নগরজুড়ে বইছে আলোচনার ঝড়।
বৈধ আয়ের সঙ্গে আকাশ-পাতাল ব্যবধান সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ড্রাইভার পদে কর্মরত তাজুল ইসলামের মাসিক বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে যা আয় হয়, তার সঙ্গে এই বিপুল সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই। চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তার মালিকানাধীন পাঁচতলা ভবনটি নির্মাণে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে তার নামে ও বেনামে থাকা এফডিআর ও নগদ অর্থের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
হঠাৎ ফুলে-ফেঁপে ওঠা ভাগ্য স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগেও তাজুলের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সাধারণ। কিন্তু গত কয়েক বছরের ব্যবধানে হঠাৎ করেই তার জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসে। কোনো ব্যবসা বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি ছাড়াই অল্প সময়ে এই বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়ায় দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ জোরালো হচ্ছে।
প্রশাসনের নীরবতা ও নাগরিক ক্ষোভ একজন নিচুতলার কর্মচারী হয়েও কীভাবে প্রশাসনের চোখের সামনে এমন সম্পদের পাহাড় গড়লেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন নাগরিক সমাজ। তাদের মতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের আশীর্বাদ ছাড়া একজন ড্রাইভারের পক্ষে এত বড় সিন্ডিকেট চালানো অসম্ভব। অবিলম্বে দুদক এবং ওয়াসা কর্তৃপক্ষের উচিত এই সম্পদের উৎস নিয়ে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা।
শুদ্ধি অভিযান কেবল বড় কর্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিচুতলার দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ বিষয়ে অভিযুক্ত ড্রাইভার তাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা তদন্তের ঘোষণা আসেনি।



