নারায়ণগঞ্জরাজনীতি

নারায়ণগঞ্জের রাজপথের লড়াকু নায়ক মামুন মাহমুদ কি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হচ্ছেন? তুঙ্গে জল্পনা-কল্পনা

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ঐতিহাসিক বিজয়ের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন। আর এই আলোচনার ভিড়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর মুখে মুখে ফিরছে একটিই নাম—নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পরও দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রদর্শনকারী এই নেতাকে এবার ‘টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী’ হিসেবে দেখার দাবি তুলেছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই নির্বাচনে বিএনপি বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পথে। তবে নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন বন্টনের সময় নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী টিকিট পাননি জেলা বিএনপির কান্ডারি অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তবুও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি অভিমান ভুলে নির্বাচনের পুরোটা সময় ধানের শীষের বিজয়ের জন্য মাঠে সক্রিয় ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মতে, অধ্যাপক মামুন মাহমুদ গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির দুর্দিনের সঙ্গী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ও পরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। মিথ্যা মামলা, হামলা এবং বারবার কারাভোগের শিকার হয়েও তিনি কখনো আদর্শচ্যুত হননি বা দলের স্বার্থের বাইরে পা ফেলেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক প্রবীণ বিএনপি নেতা বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা দেখেছি দলের নাম ভাঙিয়ে অনেকেই দখলবাজি ও চাঁদাবাজি করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। সাধারণ মানুষ এতে অতিষ্ঠ। এই সময়ে অধ্যাপক মামুন মাহমুদের মতো সৎ, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী নেতাকেই মন্ত্রী হিসেবে প্রয়োজন, যিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না।”

দলীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলের প্রতি তার ত্যাগের কথা হাইকমান্ডের অজানা নয়। তাই নারায়ণগঞ্জবাসী এবং তাঁর অনুসারী নেতাকর্মীরা প্রবলভাবে আশাবাদী যে, দল তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করে তার ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “নারায়ণগঞ্জবাসী এবং আমার প্রানপ্রিয় নেতাকর্মীদের এই চাওয়াকে আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তবে আমি সবসময় দলের শৃঙ্খলা মেনে চলেছি। দলীয় সিদ্ধান্তই আমার কাছে চূড়ান্ত। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিএনপি সবসময় ত্যাগী নেতাদের ত্যাগের মূল্যায়ন করে।”

ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে শেষ পর্যন্ত অধ্যাপক মামুন মাহমুদ মন্ত্রীর চেয়ারে বসছেন কি না, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো নারায়ণগঞ্জবাসী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button