সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামানের ১৪ একর জমি ও ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা রাজধানীসহ চার জেলার বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, জব্দকৃত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে মোট ১৪ দশমিক ৩০ একর জমি এবং একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, এসব সম্পত্তি প্রধানত চারটি জেলায় বিস্তৃত: ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ: এখানে রয়েছে মূল্যবান বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্লট। গাজীপুর ও ফরিদপুর: এই দুই জেলায় রয়েছে বড় অংকের কৃষিজমি ও বাগানবাড়ি।
তালিকায় আছাদুজ্জামানের স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনরা আদালতের এই জব্দের আদেশে শুধু আছাদুজ্জামান মিয়া নন, তাঁর পরিবারের আরও ৭ সদস্য ও নিকটাত্মীয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন:
পরিবার: স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন এবং মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা।
নিকটাত্মীয়: শ্যালিকা পারভীন সুলতানা ও ফাতেমাতুজ্জোহরা এবং শ্যালক হারিচুর রহমান। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন। দুদকের আবেদনে বলা হয়:
১. আছাদুজ্জামান মিয়া ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।
২. দুদক গোপন সূত্রে জানতে পেরেছে যে, অভিযুক্তরা তাদের এসব স্থাবর সম্পত্তি তড়িঘড়ি করে অন্যের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করছেন।
৩. এই সম্পদ বেহাত হয়ে গেলে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই মামলার স্বার্থে এগুলো এখনই জব্দ করা প্রয়োজন।
আছাদুজ্জামান মিয়া দীর্ঘদিন ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর অবসরে যান। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদক সক্রিয় হওয়ার পর তাঁর এই বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে আসে। আদালতের এই আদেশের ফলে এসব জমি বা ফ্ল্যাট এখন থেকে আর কেনাবেচা বা হস্তান্তর করা যাবে না।



