চট্টগ্রামে ভূমি নিবন্ধনে ‘ঘুষের হাট’: জেলা রেজিস্ট্রার জামিলুর রহমানের বলয়ে জিম্মি ২২ অফিস!

নিজস্ব প্রতিবেদক । চট্টগ্রাম
সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ডিজিটালাইজেশনের কথা বললেও চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রি অফিস ও এর আওতাধীন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে চলছে উল্টো রথ। অভিযোগ উঠেছে, জেলার ২২টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এখন নিয়মের চেয়ে ‘ঘুষের লেনদেন’ বেশি কার্যকর। আর এই পুরো অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেটের নেপথ্য কারিগর হিসেবে আঙুল উঠেছে খোদ জেলা রেজিস্ট্রার জামিলুর রহমানের দিকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রামে জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদান করেন জামিলুর রহমান। তার যোগদানের পর থেকেই জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো সিন্ডিকেটগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমানে তার অধীনে থাকা ২২টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার জমির দলিল রেজিস্ট্রি হয়। কিন্তু এই বিপুল কর্মযজ্ঞের আড়ালে রাজম্ব ফাঁকি ও অবৈধ লেনদেনের এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের অন্যতম বৃহৎ এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে:
সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ: রেকর্ড কিপার, নকলনবিশ ও দলিল লেখকদের একটি শক্তিশালী চক্র প্রতিটি দলিলে নির্দিষ্ট হারে ‘স্পিড মানি’ বা ঘুষ আদায় করছে।
জিম্মি সাধারণ গ্রাহক: ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়াচড়া করে না—এমন অলিখিত নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ আইনি সেবা পেতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
জেলা রেজিস্ট্রারের ভূমিকা: অভিযোগ রয়েছে, মাঠ পর্যায়ের এই অবৈধ আদায়ের একটি বড় অংশ মাসোহারা হিসেবে জেলা রেজিস্ট্রারের দপ্তরে পৌঁছায়, যার ফলে তিনি এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও কাগজপত্রের ভুল ধরা বা অহেতুক আপত্তি তোলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়। জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ— “দলিলের সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও টেবিলের নিচ দিয়ে টাকা না দিলে সই মেলে না।”
একজন জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে জামিলুর রহমানের যোগদানের পর যেখানে স্বচ্ছতা ফেরার কথা ছিল, সেখানে অনিয়ম কেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল—তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের তোয়াক্কা না করে এই প্রকাশ্য ‘ঘুষের মহোৎসব’ চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাকে এক অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছে।
উপসংহার: চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এই রেজিস্ট্রি অফিসের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা হবে। অন্যথায়, জেলা রেজিস্ট্রারের ছত্রছায়ায় থাকা এই চক্রটি সরকারের জনসেবামূলক ভাবমূর্তি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে।



