গৃহকর্মী থেকে জিয়ার পরিবারের ‘বোন’: ভোলার ফাতিমার ত্যাগের বিরল স্বীকৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা | রাজনীতির ইতিহাসে ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে থাকল একটি নাম—ফাতিমা বেগম। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকা ভোলার মেয়ে ফাতিমাকে এবার নিজের ‘বোন’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতার এমন বিরল উদাহরণে ভাসছে ফাতিমার জন্মস্থান ভোলাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চল।
যেভাবে শুরু এক অনন্য যাত্রার
ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের শাহ-মাদার গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও মালেকা বেগমের বড় সন্তান ফাতিমা। ২০০৮ সালে স্বামী হারুন লাহাড়ির আকস্মিক মৃত্যুতে দুই সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন তিনি। ভাগ্যের সন্ধানে ঢাকায় এসে ২০০৯ সালে বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’য় কাজ শুরু করেন। সেই থেকে শুরু; যা কেবল চাকরির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, রূপ নিয়েছে এক গভীর মানবিক বন্ধনে।
কারাগার থেকে হাসপাতাল: ছায়ার মতো পাশে
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া যখন কারাগারে যান, তখন রাজনৈতিক পরিচয় না থাকা সত্ত্বেও আদালতের অনুমতি নিয়ে স্বেচ্ছায় ৭৭৮ দিন কারাবরণ করেন ফাতিমা। রাজপথের আন্দোলন, গুলশানের অবরুদ্ধ সময় কিংবা হাসপাতালের নির্ঘুম রাত—সবখানেই খালেদা জিয়ার হাতটি শক্ত করে ধরে ছিলেন তিনি। এমনকি ২০২১ সালে করোনা আক্রান্ত নেত্রীর সেবায় যখন আপনজনরাও সংকটে ছিলেন, তখনো নির্ভীকভাবে পাশে ছিলেন ফাতিমা।
তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ঘোষণা
সম্প্রতি তারেক রহমান ফাতিমা বেগমকে নিজের বোনের মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন:
“মা যখন দীর্ঘ সময় একা ছিলেন, তখন ছায়ার মতো তাকে আগলে রেখেছিলেন ফাতিমা। আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে দত্তক নিয়ে জিয়া পরিবারের সম্পত্তিতে তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে।”
তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকেও আহ্বান জানিয়েছেন ফাতিমাকে নিজের বোনের মতো সম্মান দেওয়ার জন্য।
ভোলার মানুষের প্রত্যাশা ও ‘দক্ষিণ দুয়ার’
ফাতিমার এই অর্জনে খুশি ভোলার মানুষ। সাংবাদিক জাকির সিকদার তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, ভোলার গ্যাস ও ভোলার মেয়ে ফাতিমা এখন সারাদেশের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। স্থানীয়দের আশা, প্রধানমন্ত্রীর বোনের মর্যাদা পাওয়া ফাতিমার মাধ্যমে অবহেলিত বরিশাল বিভাগের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে ভোলা-বরিশাল সেতুর বাস্তবায়নে ফাতিমার এই নতুন পরিচয় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অনেকে।
অমলিন এক ছায়াসঙ্গী
বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের দিনও কফিনের সাথে হেঁটে কবর পর্যন্ত গিয়েছিলেন ফাতিমা। রাজনীতির মঞ্চে কোনো পদ না থাকলেও, আপসহীন নেত্রীর জীবনের কঠিনতম সময়ের সঙ্গী হিসেবে ফাতিমা বেগমের নাম এখন ইতিহাসের পাতায় অমলিন।



