পিরোজপুরে বিএনপি নেতা নাসির ও নিপুর ওপর দুর্বৃত্তদের হামলা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনায় প্রেরণ

এস এম নজরুল ইসলাম
পিরোজপুর-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সাবেক উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মল্লিক নাসির এবং ইউনিয়ন বিএনপি নেতা রিয়াজ উদ্দিন মল্লিক নিপু দুর্বৃত্তদের সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার পাড়েরহাট বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার বিবরণ
আহতদের পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১১টার দিকে মহিউদ্দিন মল্লিক নাসির ও রিয়াজ উদ্দিন মল্লিক নিপু পাড়েরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে করে একদল অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী অতর্কিতভাবে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
আহতদের পরিচয়
- মহিউদ্দিন মল্লিক নাসির: পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের মৃত মোজাহার মল্লিকের ছেলে। তিনি সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এবং বর্তমান ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের সদর উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
- রিয়াজ উদ্দিন মল্লিক নিপু: একই এলাকার শাহজাহান মল্লিকের ছেলে এবং শংকরপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
চিকিৎসকের বক্তব্য
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাজিব পাইক জানান, আহত দুজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে। বিশেষ করে একজনের দুই পায়ে গুরুতর জখম হওয়ায় রক্তক্ষরণ বেশি হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের খুলনায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)। তিনি জানান, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। তবে এখনো হামলার কারণ বা জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।



