তেঁতুলিয়ায় ফুটল রাজসিক টিউলিপ: উত্তরের সীমান্তজুড়ে যেন এক খণ্ড নেদারল্যান্ডস

মোঃএনামুল হক পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আবারও চোখ ধাঁধাঁচ্ছে ভিনদেশি রাজসিক ফুল টিউলিপ। হিমালয়ের পাদদেশের এই জনপদে পঞ্চম বারের মতো ফুটেছে রঙিন টিউলিপের সমারোহ। উপজেলার দর্জিপাড়া এলাকায় সারি সারি ফুটে থাকা এই ফুল দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত পর্যটক। টিউলিপের এই স্নিগ্ধতা যেন তেঁতুলিয়াকে রূপ দিয়েছে এক খণ্ড ইউরোপে।
চাষের নেপথ্যে নারী উদ্যোক্তারা
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর সহযোগিতায় এবার ১০ জন নারী উদ্যোক্তা মিলে ৬০ শতক জমিতে গড়ে তুলেছেন এই খামারভিত্তিক টিউলিপ বাগান। প্রায় ১৪ হাজার ফুলে সেজেছে পুরো এলাকা। তীব্র রোদ ও তাপমাত্রা থেকে ফুল রক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ শেড এবং নান্দনিক সাজে সাজানো হয়েছে প্রবেশপথ।
বাহারি রঙের মেলা
বাগানজুড়ে দেখা মিলছে পাঁচ প্রজাতির ও বিভিন্ন রঙের টিউলিপের। এর মধ্যে রয়েছে:
- লালিবেলা (গাঢ় লাল)
- ডেনমার্ক স্ট্রং গোল্ড (হলুদ)
- মিস্টিক ভ্যান ইজক (গোলাপি)
দর্শনার্থীরা মাত্র ৫০ টাকার টিকিট কেটে বাগানে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। কেউ ফুল ছুঁয়ে দেখছেন, কেউবা মেতেছেন সেলফি তোলায়। দিনাজপুর থেকে আসা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইখতিয়ার হোসেন মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, “আগে শুধু টিভিতেই দেখেছি, আজ বাস্তবে দেখে মনে হচ্ছে যেন নেদারল্যান্ডসে আছি।”
অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
টিউলিপ চাষ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও আনছে বড় পরিবর্তন। বাগান সংশ্লিষ্ট কৃষক রবিউল ইসলাম জানান:
- নেদারল্যান্ডস থেকে প্রতিটি বাল্ব (বীজ) আনতে খরচ হয় প্রায় ৮০ টাকা।
- প্রতিটি ফুলের স্টিক বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।
- ইএসডিও-এর প্রশিক্ষণে প্রান্তিক চাষিরা এখন এই বিদেশি ফুল চাষে দক্ষ হয়ে উঠেছেন।
- এসব ফুল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হচ্ছে রাজধানী ঢাকাতেও।
লক্ষ্য যখন ইকো-ট্যুরিজম
২০২২ সালে মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই চাষ এখন তেঁতুলিয়ার পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। ইএসডিও-র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, “প্রান্তিক নারীদের স্বাবলম্বী করা এবং পঞ্চগড়কে একটি পর্যটনবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই বাগানের মাধ্যমে আমরা এখানে ‘ইকো-কমিউনিটি ট্যুরিজম’ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি।”
শীতপ্রধান দেশের এই ফুল চাষ তেঁতুলিয়ার আবহাওয়া ও মাটির উর্বরতাকে নতুন করে চিনিয়েছে। সঠিক পরিচর্যা আর সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই টিউলিপ চাষ দেশের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



