মজুরী কম হলেও শ্রমজীবী নারীদের মুখে হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাইবান্ধা জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল একসময় ছিল অনিশ্চয়তার প্রতীক। তিস্তা নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনা নদীর ভাঙাগড়ার খেলায় গড়ে ওঠা এই ভূখণ্ড দীর্ঘদিন নদীভাঙন, বন্যা আর বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উন্নয়নধারার বাইরে ছিল। বর্ষায় ডুবে যাওয়া আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোমাখা বালুচর এই ছিল চেনা দৃশ্য। কিন্তু সময় বদলে গেছে। নদীর পলি জমে সৃষ্ট জমি এখন হয়ে উঠেছে উর্বর কৃষিক্ষেত্র। এখানে উৎপাদন হচ্ছে ভুট্টা, চীনা বাদাম, মরিচ, সরিষা, ডাল, কাউন ও ধানের ফলন।
এই সব বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে সূর্য উঁকি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় এক নীরব জীবনযুদ্ধ। নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা একেকটি চর যেন একেকটি কর্মক্ষেত্র। এখানকার নারীদের জীবন বাঁধা পড়েছে এই চরগুলোর সাথেই। কেউ ঘর সামলে ছুটে যান অন্য চরের জমিতে কাজের সন্ধানে। সকালে নিজেদের গৃহকর্ম শেষে শুরু হয় তাদের ক্লান্তিহীন কর্মযজ্ঞ, চলে একটানা বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। নয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে হাড়ভাঙা খাটুনি, এর বিনিময়ে দিনের শেষে জোটে মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০টাকা মজুরী । অথচ একই মাঠে, একই সময়ে, একই ধরনের কাজ করে পুরুষ শ্রমিকরা রোজগার করেন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, যা প্রায় দ্বিগুণ। মজুরী কম হলেও নেই তাদের মান অভিমান।
মে দিবস প্রতি বছর শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি এই কৃষি শ্রমিকরা যেন আলোচনার বাইরেই থেকে যান। ভুট্টা তোলা, মরিচ পারা কিংবা মাটির কঠিন কাজ সব ক্ষেত্রেই পুরুষের পাশাপাশি সমানতালে কাজ করে যান এই নারীরা। কিন্তু তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য যেন অধরাই থেকে যায়। দিনের শেষে ক্লান্ত শরীর, পোড়া ত্বক আর হাতে গোনা কয়েকটি টাকা-এটাই যেন তাদের দৈনন্দিন জীবন জীবিকার নির্মম বাস্তবতা।



