দর্শনার্থীশূন্য পঞ্চগড়ের কৃষি প্রযুক্তি মেলা: জনমনে ক্ষোভ, সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ

মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়: পঞ্চগড় সদর উপজেলায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা এখন কেবলই ‘লোকদেখানো’ অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকেই মেলা প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীশূন্য থাকলেও আয়োজকদের মধ্যে কোনো হেলদোল নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই দায়সারাভাবে মেলা আয়োজন করে মূলত সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে।

চিত্র যখন শূন্য মাঠ
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মেলার শেষ দিনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক হতাশাজনক চিত্র। উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এই মেলায় নেই কোনো কৃষক বা সাধারণ দর্শনার্থীর ভিড়। হাতেগোনা দুই-একজন যারা মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরছেন, তারা মূলত পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।
মেলায় মোট ১০টি স্টল থাকলেও ৯টিতেই কোনো কর্মকর্তা বা প্রদর্শকের দেখা মেলেনি। তবে মেলার এক কোণে চেয়ার পেতে আয়োজকদের কয়েকজনকে অলস সময় ও খোশগল্পে মেতে থাকতে দেখা গেছে। পুরো মেলা প্রাঙ্গণে জেলা বা সদর উপজেলার শীর্ষ কৃষি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
নামমাত্র প্রদর্শনী ও পুরনো প্রযুক্তি
মেলায় আসা মাহমুদ নামের এক সেবাগ্রহীতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ব্যানারে কৃষি প্রযুক্তি মেলা লেখা থাকলেও স্টলগুলোতে যেসব প্রজেক্ট দেখানো হচ্ছে সেগুলো অনেক পুরনো। কোনো নতুনত্বের ছোঁয়া নেই। কৃষক বা দর্শনার্থী না থাকায় মনে হচ্ছে এটা কেবল কাগজে-কলমে মেলা দেখানোর চেষ্টা।”
প্রচারণাহীন মেলায় প্রশ্নবিদ্ধ উদ্দেশ্য
দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সদর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই মেলার আয়োজন করে। কৃষিকে আধুনিকায়ন ও উন্নত কলাকৌশলের সাথে কৃষকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই ছিল মেলার মূল লক্ষ্য। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, কৃষি অফিস কোনো প্রচারণাই করেনি। প্রচারের অভাবে সাধারণ কৃষক বা শিক্ষার্থীরা মেলা সম্পর্কে জানতেই পারেননি। ফলে মেলাটি পঞ্চগড়বাসীর কোনো উপকারে আসেনি বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
মেলার বেহাল দশা এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে মুঠোফোনে পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুন্নবী বলেন,
“আমি চিকিৎসার জন্য বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। আজ বিকেলে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে মেলা সমাপ্ত হচ্ছে। বরাদ্দের বিষয়টি কাগজপত্র না দেখে বলা যাবে না। অফিসে এলে বিস্তারিত কথা হবে।”
তবে মাঠের বাস্তব চিত্র এবং কর্মকর্তার দায়সারা বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে এখানে স্রেফ অর্থ অপচয় হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।



