এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের ‘কমিশন বাণিজ্যে’ অতিষ্ঠ ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল ইমরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক ‘কমিশন বাণিজ্য’ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার দাবিকৃত অবৈধ কমিশনের কারণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদারসহ এলজিইডি’র কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ১০টি উপজেলার প্রকৌশলীরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
পদায়ন ও পেছনের কথা জানা যায়, মো. আল ইমরান পূর্বে এলজিইডি’র প্রধান কার্যালয়ে দেশব্যাপী ‘খাল-পুকুর প্রকল্পে’র উপ-প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে প্রধান কার্যালয়ে তার একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে জেলা পর্যায়ে কাজের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি বরিশালের এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি বাগিয়ে নেন।
কমিশনের অভিযোগ ও হয়রানি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যোগদানের পর থেকেই তিনি নানা অজুহাতে অর্থ আদায় শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- কার্যাদেশে কমিশন: প্রতিটি কাজের কার্যাদেশ (Work Order) দেওয়ার বিপরীতে ১% কমিশন দাবি করা এবং অধীনস্থ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে তা আদায়ে চাপ প্রয়োগ করা।
- বিল পাসে হয়রানি: ঠিকাদারদের বিল প্রদানের ক্ষেত্রে ২% কমিশন দিতে বাধ্য করা, যা ঠিকাদারদের জন্য অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
- স্কিম অনুমোদনে অর্থ দাবি: রিভাইস স্কিম অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, তিনি দপ্তরে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে হঠাৎ কোনো সাইট পরিদর্শনে গেলে সেখানে বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতির অজুহাত দেখিয়ে অর্থ আদায়ের কৌশল নেন।
সিন্ডিকেট ও অর্থ সংগ্রহকারী জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর এসব অনৈতিক অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তদারকি করেন তার কার্যালয়ের সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক মো. এনামুল হক। এছাড়া সাধারণ দর্শনার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে হয়রানি এবং নিজ স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত কাজ করে দেওয়ার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. আল ইমরানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে, বরিশালে দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। বাইরের কোনো প্রকৌশলী এসে কাজ করতে গেলেই এই সিন্ডিকেট নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বর্তমান অভিযোগগুলোকে তারা ‘সাজানো গল্প’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা সর্বশেষ বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল ইমরান প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন উপঢৌকনের প্রলোভন দেখিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও কাজের মান রক্ষায় অনতিবিলম্বে এই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। অন্যথায় বরিশাল জেলায় উন্নয়নমূলক কাজে স্থবিরতা, জনদুর্ভোগ ও জনরোষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।



