পঞ্চগড়ে কলেজ অধ্যক্ষের বাড়িতে ডাকাতি: প্রতিবেশীই মূল হোতা, দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৬

মো. এনামুল হক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: পঞ্চগড় সদর উপজেলায় এক কলেজ অধ্যক্ষের বাড়িতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র।

আজ সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।

যেভাবে ঘটে ডাকাতি পুলিশ জানায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটের দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় প্রিন্সিপাল মফিজার রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। তারা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ঘরে থাকা প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (যার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা), নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি স্মার্টফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের এসআই মো. আবু হোসেন ও এসআই মো. নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একটি দল তদন্ত শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৪ মার্চ গভীর রাতে পঞ্চগড়ের গাড়াতি ছিটমহল, পুকুরিডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৫ মার্চ দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে যুগিভিটা এলাকা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী মো. আলমকে (৩৭) গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন— মজিবর রহমান (৩৫), রমজান আলী (৩০), সাদ্দাম হোসেন (৩০), আশিক (১৯) এবং জুবায়ের ওরফে জিদান (১৯)।
তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লুণ্ঠিত স্মার্টফোন, একটি সিম কার্ড এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি সাবল, একটি ছোট চাকু ও দুটি বড় ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রতিবেশীই যখন ডাকাত সর্দার তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী আলম মূলত ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ নুরুল্লাহর প্রতিবেশী। পুলিশ জানায়, আর্থিক সংকটের কারণে আলমের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়। অধ্যক্ষ নুরুল্লাহর হজে যাওয়ার প্রস্তুতির বিষয়টি সে জানত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সে তার সহযোগীদের নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করে ও তা বাস্তবায়ন করে।
আসামিদের বর্তমান অবস্থা গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মূল হোতা আলম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। বর্তমানে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য উদ্ধারের জন্য সাদ্দাম, জুবায়ের ওরফে জিদান, রমজান, মজিবর ও আশিককে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে (রিমান্ড) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।



