ইসলাম ধর্মে জিহাদের গুরুত্ব: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি পর্যালোচনা

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক
ইসলামী জীবনব্যবস্থায় ‘জিহাদ’ বা আল্লাহর পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার একটি সুনির্দিষ্ট ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। পবিত্র কুরআন এবং নবী কারীম (সা.)-এর বিভিন্ন হাদিসে মুমিনদেরকে নিজেদের জান, মাল এবং শক্তির মাধ্যমে আল্লাহর পথে সংগ্রাম করার জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
কুরআনের আলোকে জিহাদের নির্দেশ পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে জিহাদের নির্দেশ ও এর কল্যাণের কথা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সূরা আস-সফের ১১ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তোমরা আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি ঈমান আন এবং আল্লাহর পথে অর্থ-সম্পদ ও জান-প্রাণ দিয়ে জিহাদ করো, এটাই তোমাদের জন্য অতীব কল্যাণকর যদি তোমরা তা জান।”
পার্থিব মোহ যেন আল্লাহর পথের বাধায় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সূরা আত-তওবার ২৪ নং আয়াতে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে— পিতা, সন্তান, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, উপার্জিত সম্পদ বা বাসস্থানের চেয়ে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করাকে বেশি ভালোবাসতে হবে। অন্যথায় আল্লাহর ফায়সালার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। একই সূরার ৮৮ নং আয়াতে জান-মাল দিয়ে জিহাদকারীদেরকে ‘সফলকাম’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
এছাড়া, সূরা আল-বাক্বারার ২১৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমাদের যুদ্ধ করার হুকুম দেয়া হয়েছে এবং তা তোমাদের কাছে অপ্রীতিকর। হতে পারে কোন জিনিস তোমাদের কাছে অপ্রীতিকর অথচ তা তোমাদের জন্য ভালো… আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।”
হাদিসে জিহাদের ফজিলত ও সতর্কতা কুরআনের পাশাপাশি হাদিসেও জিহাদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও সতর্কতা রয়েছে। সুনানে আন-নাসায়ীর (হাদিস ৩১৯২) বর্ণনা অনুযায়ী, রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমরা জিহাদ কর তোমাদের হাত (শক্তি) দ্বারা, তোমাদের জিহবা (উক্তি) দ্বারা এবং তোমাদের সম্পদ দ্বারা।”
জিহাদ থেকে বিরত থাকার পরিণতি সম্পর্কেও হাদিসে কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে। সুনানে আবু দাউদের (হাদিস ২৫০৩) তথ্যমতে, যে ব্যক্তি নিজে জিহাদ করেনি, কোনো মুজাহিদকে সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করেনি বা মুজাহিদ পরিবারের উপকার করেনি, আল্লাহ ক্বিয়ামাতের পূর্বে তাকে কঠিন বিপদে ফেলবেন। অন্য একটি সহীহ হাদিসে বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা গেল যে, সে জিহাদে অংশগ্রহণ করলো না, মনে জিহাদের কথা বললো না, সে অজ্ঞতা যুগের মৃত্যুবরণ করলো।”
জিহাদের সর্বোচ্চ পুরস্কারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সহিহ বুখারীর (হাদিস ২৮১৮) বর্ণনায় বলা হয়েছে, “তোমরা জেনে রাখ, তরবারির ছায়া-তলেই জান্নাত।”
সারসংক্ষেপ কুরআন ও হাদিসের এই উদ্ধৃতিগুলো থেকে এটি স্পষ্ট যে, ইসলামে কেবল ইমান আনাই যথেষ্ট নয়; বরং সম্পদ, বাক্য ও শক্তির মাধ্যমে সত্যের পক্ষে সংগ্রাম করাকে ইমানের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।



