রাঙ্গুনিয়ায় দুই হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

মুহাম্মদ জুবাইর
র্যাব-৭, চট্টগ্রাম পৃথক দুইটি হত্যা মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ প্রকাশ কুদুরুসকে গ্রেফতার করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া থানার মামলা নং-০৪ (১০) ৯৯, ধারা ৩০২/১০৯/৩৪ দণ্ডবিধি এবং কাউখালী থানার মামলা নং-০৩, তারিখ ২৬ জুলাই ২০১৩, ধারা ৩০২/১০৯/৩৪ দণ্ডবিধির একটি হত্যা মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা যায়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭ জানতে পারে যে, পলাতক এই আসামি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় অবস্থান করছে। তথ্যটি যাচাই-বাছাই শেষে র্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল গত ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটে রাঙ্গুনিয়া থানাধীন পাহাড়তলী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের এক পর্যায়ে অভিযানিক দল তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল কুদ্দুছ প্রকাশ কুদুরুস (৩৫) চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ওস্তাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মৃত মোঃ হোসেন, যিনি স্থানীয়ভাবে বাঁচা মিয়া নামে পরিচিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুইটি পৃথক হত্যা মামলায় পলাতক ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দুইটি হত্যা মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি আব্দুল কুদ্দুছ প্রকাশ কুদুরুসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। হত্যা, সন্ত্রাস, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও বাড়ে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই আসামির গ্রেফতারকে স্থানীয়রা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।



