মনিরুল হক চৌধুরী এমপি থাকাকালীন সময়ে তার কাজকর্ম প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়নি

অপরাধ বিচিত্রা: মনিরুল হক চৌধুরী সাহেব এমপি থাকাকালীন সময়ে তার কাজকর্ম প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়নি। বাট লোকমুখে এটি শুনতাম, কুমিল্লা শহরের দক্ষিণাঞ্চলে ম্যাক্সিমাম রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রীজ ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তার সময়ে ভিত্তিপ্রস্তর করা।
মধ্যবয়সে তিনি কতটা জনবান্ধন এমপি ছিলেন এবং কাজ আদায় করে নেওয়ার ব্যাপারে সিরিয়াস ছিলেন, এর একটা আঁচ করতে পারতেছি এ বৃদ্ধ বয়সে এসেও জনগণের প্রতি লয়াবিলিটি দেখে।
সংসদে দাঁড়িয়ে গতকালকে উনি যেভাবে নিজ দলের তিন তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা মন্ত্রীকে জনগণের ভয়েস হয়ে তুলোধুনো করেছেন, তা কল্পনা করা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।
বয়সের ভারে ক্লান্ত। সম্ভবত ৮০ প্লাস। কথা বলবার সময়ে শরীর কাপে, এরপরও তারুণ্যদীপ্তের মতো আগুনের শব্দ ঝাণ্ডা ছুঁড়লেন, আমি অপেক্ষা করছিলাম, মন্ত্রী কিংবা তার দলের নেতারা কী রিঅ্যাকশন করেন!
উনার বক্তব্য হলো ঢাকা-চট্রগ্রাম হাইওয়ের মধ্যে কুমিল্লা রেললাইনে যে ‘মরণফাঁদ’ সেটি স্থায়ীভাবে নিরসনে কেন কোনো পদক্ষেপ এখনো বাস্তবায়িত হলো না। আর কত মানুষের মরণ হলে হুঁশ হবে!
এত কোটি কোটি টাকা তহবিলে দেওয়া হয়, সেই টাকা যায় কোথায়!
যোগাযোগমন্ত্রী জবাব দিতে গিয়ে উটকো বিপাদ ডাকলেন!
‘আওয়ামী লীগের সময়ে যেই বক্তব্য দিছে, মন্ত্রী সাব সেটাই দিছেন। মন্ত্রী মহোদয় বলছেন আন্ডারপাস হবে, ওভারপাস হবে, আরো বহুকিছু হবে, এ রবীন্দ্র সংগীত বহুবার শুনেছি; আর শুনতে চাই না।
উনার প্রত্যেকটা কথা সচিবেরা শিখিয়ে দিয়েছেন। ওই যারা টাকা লুটপাট করেছেন, তাদেরই শিখিয়ে দেওয়া কথা তিনি বলতেছেন।’
ক্যান য়ু ইমেজিন, আওয়ামী সরকার কিংবা অন্য যেকোনো সরকার হলে আপনি এমন দৃশ্য কভু কল্পনা করতে পারবেন সংসদের ভেতর, একজন মন্ত্রীকে নিজ দলের এমপি জিন্দা পোস্টমর্টেম করার মতো সাহস দেখাবেন।
বিএনপি দলটির ওপরে এ জায়গাতে বাড়তি ফ্যাসিনেশন।
যে কাজ করার কথা বিরোধী দলের এমপিদের, জনগণের পক্ষে সেই রোল প্লে করতেছেন সরকারদলীয় এমপিই।
এবার আরেকটি দৃশ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিই। কোলাজ করা ছবির ভদ্রমহিলার চেহারা আপনাদের কাছে নিশ্চয়ই পরিচিত।
জুলাইয়ের সেই উত্তাল সময়ে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে যিনি হাসিনার বিরুদ্ধে হুংকার দিয়েছিলেন, ‘কয়জনের জবান বন্ধ করবেন আপনারা! একজনের জবান বন্ধ করলে দশজন দাঁড়াব, দশজনের জবান বন্ধ করলে হাজার মানুষ দাঁড়াবে।’
উনি এ মনিরুল হক চৌধুরী সাহেবের মেয়ে। ঢাবির টিচার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকার আবেগ, কান্না-মিশ্রিত সেদিনের বক্তব্য লক্ষ লক্ষ মানুষকে কাঁদিয়েছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর হাজার হাজার মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন রাস্তায় বেরিয়ে এসে ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিতে। বাবা-মায়েরা বেরিয়ে এসেছিলেন সন্তানের সঙ্গে। সেদিনের তার কয়েক মিনিটের বক্তব্যে একেকটি বাক্য ছিল হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গোলাবারুদ। হাসিনার মসনদে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন উনি।
গতকাল সংসদে মনিরুল হক চৌধুরীর শব্দের গোলাবারুদ যখন শুনছিলাম আমার স্মরণ হচ্ছিল উনার মেয়ে সায়েমা চৌধুরীর সেদিনের একই এনার্জির বক্তব্যটি। লাইক ফাদার, লাইক ডটার।



