অন্যান্যইসলাম ধর্ম

‘হজ্ব কাদের প্রতি বাধ্যতামূলক বা ফরজ’

অপরাধ বিচিত্রা ডেক্সঃ সামর্থ্যবান ব্যক্তির প্রতি হজ্ব করা ফরজ। বিশেষ করে সামর্থ্যবান বলতে বোঝায়- যারা শারীরিকভাবে সুস্থ, সফর করতে সক্ষম, সফরের এমন পাথেয় ও বাহন রয়েছে যার দ্বারা হজ্ব করে ফিরে আসতে পারে। তার পূর্বে তার প্রতি যা কিছু ওয়াজিব যেমনঃ ঋন পরিশোধ করা, পরিবারের ভরণপোষণ খরচ দেওয়া ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ থাকা।

অর্থাৎ যার শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তার নিজেই হজ্ব করা ফরজ। আর যার আর্থিক সামর্থ্য আছে কিন্তু শারীরিক ক্ষমতা নাই, তার উপর ওয়াজিব হলো তার পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব করানো। আর যার শারীরিক ক্ষমতা আছে কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য নাই, তার প্রতি হজ্ব ফরজ নয়। আর যার শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য কোনটাই নাই, তার উপর থেকে হজ্ব রহিত।

যার নিকট হজ্ব করার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই তার জন্য জাকাত ফান্ড থেকে নেওয়া জায়েজ আছে ; কারণ হজ্ব আল্লাহর রাহের অন্তর্ভুক্ত।
যদি কোন ব্যক্তি হজ্ব ফরজ হওয়ার পরে হজ্ব না করেই মারা যায়, তবে তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে বদলি হজ্ব করার জন্য সম্পদ বের করার পর বাকি সম্পদ ভাগ-বণ্টন করতে হবে।

আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
وَ لِلّٰہِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡہِ سَبِیۡلًا ؕ وَ مَنۡ کَفَرَ فَاِنَّ اللّٰہَ غَنِیٌّ عَنِ الۡعٰلَمِیۡنَ
“আর যেসকল মানুষ আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ্ব করা তাদের জন্য ফরজ। যদি কেউ অস্বীকার করে সে জেনে রাখুক, নিশ্চয় আল্লাহ সমগ্র বিশ্ববাসী হতে প্রয়োজনমুক্ত।”
(সূরা আল-ইমরান আয়াত ৯৭)

সংক্ষেপে হজ্বের ফজিলতঃ

আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী কারিম (সাঃ) বলেছেনঃ
” যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ্ব করবে, আর অশ্লীল কথা, আচরণ, অন্যায় ও পাপাচার থেকে দূরে থাকবে, সে ঐ দিনের মতো নিষ্পাপ শিশু হয়ে আসবে যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল।”
(বুখারীর হাদিস নং ১৫২১, মুসলিম ১৩৫০)

[#ইসলামি ফিকাহ,খ;২,পৃঃ১১৪
মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত্তু- ওয়াইজিরী]

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button