
ইদি আমিন এপোলো: ‘স্বাধীন ও বহুমাত্রিক মত প্রকাশের স্বাধীনতাই গণতন্ত্র’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ মে) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশনস (এফবিজেও)-র উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান এস এম মোরশেদের প্রধান অতিতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিজেও-র মহাসচিব এস এম হানিফ আলী। সংগঠনের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক কে এম মাসুদুন্নবী নুহুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবাদকর্মীদের সুরক্ষায় একগুচ্ছ দাবি উত্থাপন করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩ মে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘প্রেস কাউন্সিল দিবস’ রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা জরুরি। তারা আরও বলেন, সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে দেশের সকল সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশনকে (এফবিজেও) তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
বক্তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো সরকারি বা বেসরকারি ব্যক্তি যদি সাংবাদিককে বাধা প্রদান করেন, তবে সেটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া সাংবাদিকদের জন্য পেনশন ভাতা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো নিরসনে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এফবিজেও-র সহ-সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, স্বদেশ বিচিত্রার সম্পাদক অশোক ধর, প্রবীণ সাংবাদিক নেতা লায়ন ইব্রাহিম ভূঁইয়া, আলতাব হোসেন মোল্লা, মো. শাহিন আলম, মো. ইদি আমিন এপোলো, মো. ফারুক হোসেন, মো. কামরুজ্জামান, মো. আবুল কালাম, মো. ফজলুর রহমান, মোসাম্মৎ মাহফুজা আক্তার মলি ও মো. সানজিদসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের সম্পাদক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
সমাবেশ থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা ও সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই সাংবাদিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়ে একটি সাংবাদিকবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য তারা বর্তমান সরকারের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।



