আপসহীন সাংবাদিকতার বাতিঘর ‘অপরাধ বিচিত্রা’ এবং আমার গর্বিত পথচলা
এম এ মান্নান: সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি সমাজের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতা। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও, বস্তুনিষ্ঠ এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রকৃত স্বাদ আমি পেয়েছি ‘অপরাধ বিচিত্রা’য় এসে। আজ তিন বছর প্রতীক্ষার পর এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করার যে সুযোগ আমার হয়েছে, তাকে আমি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি বলে মনে করি।
আমার অনুপ্রেরণার বাতিঘর- সম্পাদক হাজী এস এম মোরশেদ ‘অপরাধ বিচিত্রা’র সম্পাদক ও প্রকাশক আলহাজ্ব এসএম মোরশেদ স্যার আমার কাছে কেবল একজন অভিভাবক নন, বরং একজন আদর্শ শিক্ষক। গত ৩০ বছর ধরে তিনি সাহসিকতার সাথে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনে যে আপসহীন ভূমিকা পালন করছেন, তা এ দেশের সাংবাদিকতা জগতে এক বিরল দৃষ্টান্ত। তার নীতি-নৈতিকতা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে তার উৎসাহ আমাকে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে।
যারা তার সান্নিধ্যে থেকে সাংবাদিকতার পাঠ গ্রহণ করেছেন, তাদের লেখনীর ধার সম্পূর্ণ আলাদা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে কদিন আমি এই মহান পেশায় থাকব, ‘অপরাধ বিচিত্রা’ ব্যতি রেখে অন্য কোনো সংবাদ মাধ্যমের প্রয়োজন আমার হবে না। বাংলাদেশে হাজার হাজার জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা রয়েছে। কিন্তু ‘অপরাধ বিচিত্রা’র মতো সাহস কজন দেখাতে পারে? দেশের প্রতিটি সংবাদপত্রের সম্পাদক যদি আমার সম্পাদকের মতো সাহসিকতার সাথে অনিয়ম, দুর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্যের আমলনামা প্রকাশ করতেন, তবে এই জাতি প্রকৃতপক্ষেই উপকৃত হতো। এই পত্রিকাটি কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল।
‘অপরাধ বিচিত্রা’য় কাজ করা মানেই প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখা। এখানে আধুনিক সাংবাদিকতার সাথে তাল মিলিয়ে মোবাইল সাংবাদিকতা, ভিডিও জার্নালিজম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট তৈরির মতো আধুনিক কৌশলগুলো শেখার দারুণ সুযোগ রয়েছে। রিপোর্টিং ও এডিটিংয়ের ক্ষেত্রে যে পেশাগত দক্ষতা এখান থেকে অর্জিত হয়, তা ভবিষ্যতে একজন সাংবাদিকের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
নির্যাতিতের পাশে আমরা আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট, আমাদের স্লোগান -দূর্নীতি মুক্ত দেশ আমাদের স্বপ্ন তারই দ্বারা বাহিকতায়—ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, কালোবাজারি, প্রতারক ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা। আমার শিক্ষা গুরু হাজী এসএম মোরশেদ স্যারের নির্দেশনায় আমরা কাজ করি মানুষের কল্যাণে। তিনি এমন একজন কঠোর প্রশাসক যিনি নিজের কোনো প্রতিনিধি অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করেন না।
আমরা সাধারণ মানুষকে বলতে চাই—কারো প্রতারণা বা সন্ত্রাসের ভয়ে মুখ বন্ধ করে থাকবেন না। আমরা আছি আপনাদের পাশে। দুর্নীতি প্রতিরোধ করে দেশের উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। যেখানে এক ঝাঁক আপোষহীন কলম সৈনিক কাজ করছে, সেখানে সত্যের জয় নিশ্চিত।পরিশেষে, ‘অপরাধ বিচিত্রা’র গুণগান গেয়ে শেষ করা সম্ভব নয়। এই প্রতিষ্ঠানটি আমার কাছে সত্য প্রকাশের একটি পবিত্র মন্দির। সাংবাদিকতার এই দীর্ঘ পথচলায় ‘অপরাধ বিচিত্রা’র জয়গান গেয়েই আমি আমার দায়বদ্ধতা পূরণ করতে চাই।



