পার্সেল সেবায় অনিয়মের অভিযোগ: দেরি, ভাড়া বৈষম্য ও সেবাহীনতায় ক্ষুব্ধ গ্রাহক
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পার্সেল ও কুরিয়ার সেবাখাতে গ্রাহকসেবা ও ভাড়া নির্ধারণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জননী এক্সপ্রেস পার্সেল সার্ভিসের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নীতিমালা ও স্বচ্ছ মূল্য তালিকা না থাকার অভিযোগে গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, বগুড়া থেকে চট্টগ্রামের মুরাদপুর শাখায় একটি পার্সেল পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় ৭ দিন। একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে বগুড়ায় পাঠানো আরেকটি পার্সেল পৌঁছাতে লেগেছে ১২ দিন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সেবার মান নিয়ে।
গ্রাহকদের দাবি, একই গন্তব্য ও প্রায় একই ধরনের পার্সেলের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ৪৮ কেজি ওজনের একটি তেলের জার পরিবহনে একজনের কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হলেও অন্য ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে ২৫০ টাকা। এ বিষয়ে শাখা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
মুরাদপুর শাখার কর্মকর্তারা জানান, পণ্য শাখায় না পৌঁছালে ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব নয় এবং ব্যস্ততার কারণে সব গ্রাহককে ফোন করে জানানোও সম্ভব হয় না। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, বারবার যোগাযোগ করলেও তারা সঠিক তথ্য পাননি এবং বিষয়টি অবহেলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে বগুড়া শাখার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পার্সেলের নম্বর মুছে যাওয়ার কারণে বিলম্ব হয়েছে। তবে গ্রাহকদের মতে, এ ধরনের অজুহাতে দায়িত্ব এড়ানো যায় না এবং সময়মতো অবহিত না করা গুরুতর গাফিলতি।
প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা স্থানীয় শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেও মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
গ্রাহকদের প্রশ্ন পার্সেল পরিবহনে নির্দিষ্ট ওজন বা আকারভিত্তিক মূল্য তালিকা কোথায়? কেন একই পণ্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে? তাদের দাবি, দ্রুত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, স্বচ্ছ মূল্য তালিকা প্রকাশ এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে এই ভোগান্তির অবসান করা হোক।



