মাদকের অভয়ারণ্য বরগুনা: ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘গডফাদার’, কাঠগড়ায় পুলিশের ভূমিকা
নূর হোসেন ইমাম (অনলাইন এডমিন):বরগুনা জেলা শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পাড়া-মহল্লায় ‘হাত বাড়ালেই’ মিলছে মরণনেশা। প্রতিনিয়ত খুচরা বিক্রেতারা ধরা পড়লেও আড়ালেই থেকে যাচ্ছে মূল হোতারা। অভিযোগ উঠেছে, জেলা পুলিশের একটি প্রভাবশালী অংশের যোগসাজশ ও মাসোহারা বাণিজ্যের কারণে মাদকের এই লাগামহীন বিস্তার থামছে না।মাদকের চিহ্নিত আস্তানা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরগুনা শহরের গার্ল স্কুল রোড, কাঠপট্টি, চরকলোনি, লাকুরতলা, খারাকান্দা এবং ক্রোক এলাকা সহ ৪ নং ইউনিয়ের অধিকাংশ জায়গা এখন মাদক কারবারিদের প্রধান আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এসব এলাকায় বড় বড় কারবারিরা প্রকাশ্যেই তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকাগুলোতে উঠতি বয়সের তরুণ থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের আনাগোনা বেড়েছে, যা সামাজিক পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে।
অভিযোগের তিরে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা: জনমনে সবচাইতে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বরগুনা থানার এসআই সোহেল, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই কায়সার ওরফে ডলার এবং ডিবি কর্মকর্তা মাহমুদের ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে একই জেলায় অবস্থান করছেন। এমনকি বদলির আদেশ আসলেও বিভিন্ন কৌশলে তারা বরগুনাতেই থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।সম্প্রতি এসআই সোহেলকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে পাথরঘাটা থানায় বদলি করা হলেও তিনি জেলার বাইরে যাননি। প্রশ্ন উঠেছে, এই কর্মকর্তাদের খুঁটির জোর কোথায়? কেন তারা এই জেলা ছাড়তে চান না? স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক কারবারিদের সাথে গভীর সখ্য এবং নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের কারণেই তারা এই এলাকা ছাড়তে নারাজ। এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় তদন্তের দাবি উঠেছে জোরালোভাবে।
চুনোপুঁটি ধরা পড়লেও আড়ালে রাঘববোয়াল: মাঝে মাঝে পুলিশি অভিযানের চিত্র দেখা গেলেও সেগুলোতে কেবল খুচরা বিক্রেতা বা মাদকসেবীরাই ধরা পড়ছে। কিন্তু পর্দার আড়ালে থাকা বড় মাদক ব্যবসায়ীরা বা ‘ইনভেস্টররা’ কেন ধরা পড়ছে না, তা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের ধারণা, পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিরাই মূলত এই কারবারের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এছারা ও বরগুনা জেলার অনেক সাংবাদিক ও জড়িয়ে পরেছেন এই মাদক কারবারি দের সাথে।
মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে বাঁচতে করণীয়: মাদকের এই বিষাক্ত ছোবল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে কেবল পুলিশের ওপর ভরসা না করে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন
১. জিরো টলারেন্স নীতি ও শুদ্ধি অভিযান: পুলিশের ভেতরে থাকা কালো ভেড়াদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। দীর্ঘদিন একই স্টেশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে জেলার বাইরে বদলি নিশ্চিত করতে হবে।২. যৌথ অভিযান: মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ, ডিবি এবং র্যাবের সমন্বয়ে বড় মাদক কারবারিদের আস্তানায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে হবে।৩. সামাজিক প্রতিরোধ: প্রতিটি এলাকায় পাড়া-মহল্লায় মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করতে হবে। মসজিদের ইমাম, শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।৪. তথ্য সুরক্ষা: যারা মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দেবেন, তাদের জানমালের নিরাপত্তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায়।৫. অভিভাবকদের সচেতনতা: নিজ সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে সেদিকে কড়া নজরদারি রাখতে হবে।বরগুনার যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে এখনই মাদকের এই নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিকল্প নেই। সাধারণ মানুষের দাবি কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে প্রশাসন প্রমাণ করুক যে তারা মাদকের বিরুদ্ধে আপসহীন।এই সকল বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান আছে



