মতামত

মাদক নির্মূলে অপরাধ বিচিত্রার রিপোর্টার আরিফুজ্জামান হেলাল এর প্রতিবাদেন

আরিফুজ্জামান হেলাল: মাদক বিক্রি ও মাদক সেবন শুধু বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করলেই হবেনা, পাশাপাশি এই দুই শ্রেণীর পুনর্বাসন ও চিকিৎসার উদ্যোগ গ্রহণ অত্যাবশ্যকীয়

মাদক বিক্রেতা এবং মাদক সেবনকারীদের পুনর্বাসনে দায়িত্ব রয়েছে অভিভাবকদের, দায়িত্ব রয়েছে সরকারের, দায়িত্ব রয়েছে জনপ্রতিনিধিদের, রাজনীতিবিদদের সমাজপতিদের।

সরকারীভাবে মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের পুনর্বাসন এবং চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে।

মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যার জন্য প্রয়োজন অদম্য ইচ্ছা, সঠিক চিকিৎসা এবং পরিবারের সমর্থন। মাদক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার প্রধান উপায়গুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. মাদক/নেশাকে শতভাগ হারাম বিশ্বাস করা

২. শতভাগ তাকওয়া অবলম্বন করা (আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কে ভয় করা, যেমনটি ভয় করা উচিত)

৩. মানসিক দৃঢ়তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ: নেশা ছাড়ার দৃঢ় ইচ্ছা:নিজের ভেতর থেকে নেশা ছাড়ার প্রবল ইচ্ছা থাকতে হবে।

৪. পরিবারকে জানানো:পরিবার বা বন্ধুদের জানান যে আপনি নেশা ছাড়তে চান, এতে সমর্থন পাওয়া সহজ হয়।

৫. পেশাদার চিকিৎসা ও থেরাপি: চিকিৎসকের পরামর্শ (Detoxification): শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করার জন্য অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা বা রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি হওয়া। কাউন্সেলিং (CBT) কগনিটিভ বিহেভিয়ারেল থেরাপি (CBT) মাদকাসক্তদের আচরণ ও চিন্তাভাবনা পরিবর্তনে অত্যন্ত কার্যকর।

৬. পরিবেশ ও জীবনধারা পরিবর্তন:মাদক ও মাদকসেবী বন্ধুদের থেকে দূরত্ব: যারা মাদক গ্রহণ করে, তাদের থেকে দূরে থাকুন এবং মাদকের পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।বাসা থেকে মাদকদ্রব্য অপসারণ: ঘরের সব ধরনের মাদক বা নেশার সরঞ্জাম ফেলে দিন।নতুন শখ বা ব্যস্ততা: কাজের ফাঁকে বই পড়া, ব্যায়াম বা পছন্দের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকুন।

৭. স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন:পুষ্টিকর খাবার ও প্রচুর পানি পান: শরীরকে সুস্থ করতে সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।ব্যায়াম ও যোগব্যায়াম: নিয়মিত ব্যায়াম মনের চাপ কমায় এবং শরীর সতেজ রাখে।

৮. পুনর্বাসন ও সামাজিক সমর্থন:সাপোর্ট গ্রুপ: ‘নারকোটিকস অ্যানোনিমাস’ (Narcotics Anonymous) এর মতো সাপোর্ট গ্রুপে যোগ দিতে পারেন।পরিবারের ভূমিকা: মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে গালিগালাজ না করে, বুঝিয়ে এবং ভালোবাসা দিয়ে আসক্তি থেকে ফেরানোর চেষ্টা করতে হবে।এভাবে মাদক থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব, তবে ধৈর্য ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button