
স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৪ নম্বর সুবিল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে চলমান এই প্রকল্পে অসাধু ঠিকাদারের এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশ থেকে এলজিইডি কর্মচারী তাসলিমার বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি উন্নয়নের জন্য ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের শুরু থেকেই অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদার সেখানে নিম্নমানের ইটের সুরকি, রাবিশ ও বালু ব্যবহার করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী উত্তম বাবু সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকেও অবহিত করা হলে তিনিও বিতর্কিত খোয়া ও রাবিশ দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু সরেজমিনে আজ মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) সকালে দেখা গেছে, প্রকৌশলীদের নির্দেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঠিকাদার একই নিম্নমানের রাবিশ দিয়ে রাস্তার কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ‘মানিক’ নামে এক ঠিকাদার এই কাজটি করছেন। জনস্বার্থে সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিলেও ঠিকাদারের দুর্নীতির কারণে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশও যদি ঠিকাদার না মানেন, তবে আমরা কার কাছে যাব? নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি এই রাস্তা অল্প দিনেই ধসে পড়বে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় সরকারের এই উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলে তারা মনে করছেন।



