
এম শাহীন আলম: গাজীপুর সদর উপজেলায় ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক ১ শতাংশ বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা উন্নয়নের নামে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির নেপথ্যে অভিযোগের তীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাত হোসেন এবং সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী মুহঃ ফারুক হাসানের দিকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বার্ষিক ১ শতাংশ বরাদ্দের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে এর বড় একটি অংশই কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ নামমাত্র সম্পাদন করে বা কাজ না করেই সরকারি অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের কোনো বাস্তব অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য না পাওয়ায় বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে ইউএনও মো. সাজ্জাত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি দাবি করেন, বরাদ্দের অর্থ ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে এবং তদারকির দায়িত্ব ছিল প্রকৌশলীদের। তবে সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী ফারুক হাসান এ বিষয়ে কোনো দায় নিতে রাজি হননি। তিনি জানান, বদলি হয়ে যাওয়ার আগে বিষয়টি ইউএনওকে জানালেও তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি। বরং সকল বিষয়ের জন্য তিনি ইউএনওর দিকেই ইঙ্গিত করেন।
এদিকে বর্তমান চলতি দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকৌশলীও এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তার মতে, অনিয়ম হয়ে থাকলে তার পুরো দায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের। তবে উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন পরস্পরবিরোধী এবং দায়সারা বক্তব্য স্থানীয় সচেতন মহলের মনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, ইউএনও এবং প্রকৌশলীদের প্রত্যক্ষ মদতে এবং কিছু অসাধু ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের যোগসাজশে সরকারি এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তথ্য গোপন রাখার প্রবণতাকে দুর্নীতির অন্যতম বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। যদি উন্নয়ন কার্যক্রম স্বচ্ছ হতো, তবে তথ্য দিতে প্রশাসনের এত অনীহা কেন—এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র।
গাজীপুর সদর উপজেলার এই অর্থ লোপাটের ঘটনায় স্থানীয় সুধী সমাজ ও ভুক্তভোগীরা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় না করে ব্যক্তিস্বার্থে আত্মসাৎ করার এই রহস্য উন্মোচনে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অনিয়মের আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে আগামী সংখ্যায়।



