রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দম্পতি সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিক কায়দায় হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। রায় ঘোষণা শেষে বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার ক্ষতবিক্ষত ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল।
অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৯ মে মরদেহ উদ্ধারের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
পরবর্তী দিন ২ জুন মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা, মা ও বোনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ বিচারক চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করলেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিতে এই রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



