শেষ পর্যন্ত বিদায় নিচ্ছেন কসবার মাদক সম্রাটদের ‘যম’ এসআই ফারুক হোসেন

এম এ মান্নান: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় দীর্ঘ দিন অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনকারী পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন অবশেষে বদলিজনিত কারণে বিদায় নিচ্ছেন। কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে তার এই বিদায়লগ্নে কসবার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা থানায় কর্মরত থাকাকালীন এসআই ফারুক হোসেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে, সীমান্ত ও মাদকপ্রবণ এই অঞ্চলে তার সাহসী ও আপসহীন মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে তিনি দ্রুতই কসবার আপামর জনসাধারণের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হন। মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কারণে কসবায় তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের ‘যম’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত অসংখ্য সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারসহ বহু চিহ্নিত অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
শুধু অপরাধ দমনই নয়, সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা। থানায় আসা ভুক্তভোগীদের যেকোনো অভিযোগ তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব ও ধৈর্যের সঙ্গে শুনতেন এবং দ্রুত আইনি প্রতিকার দেওয়ার চেষ্টা করতেন। যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশের দরজা সবসময় উন্মুক্ত রেখে তিনি তৈরি করেছিলেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
এদিকে তার বদলির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে এক ধরনের শূন্যতার সৃষ্টি হয়। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ফারুক হোসেনের মতো একজন সৎ, দক্ষ, সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ পুলিশ কর্মকর্তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
কসবার স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ ও সুধী সমাজ বিদায়ী এই পুলিশ কর্মকর্তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। সেই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন কর্মস্থলেও তিনি একই নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও দক্ষতার সঙ্গে জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন।



