আইন-শৃঙ্খলা

মাগুরা থেকে চট্টগ্রামে মাদক সরবরাহ, ধরা আকবর শাহে

দুলাল শিকদার: চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ থানা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্য হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আওতাধীন আকবরশাহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুজ্জামানের সার্বিক নির্দেশনায় মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে একটি বিশেষ আভিযানিক টিম মাঠে নামে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন আকবরশাহ থানার এসআই (নিঃ) মো. হুমায়ুন কবির। তার সঙ্গে এএসআই শওকত উল করিম এবং সঙ্গীয় ফোর্স অংশগ্রহণ করেন।

গোপন সংবাদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে যে, আকবরশাহ থানাধীন পাক্কা রাস্তার মাথা এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য নিয়ে অবস্থান করছে। এমন তথ্য পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নজরদারি শুরু করে। সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে দুই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের কাছে থাকা মালামাল তল্লাশি করে মোট ৯ (নয়) কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. লাল চাঁন (৩৬) এবং সবুজ বিশ্বাস (৩৩)। পুলিশ জানিয়েছে, মো. লাল চাঁনের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার কাজিরাইল এলাকায় এবং সবুজ বিশ্বাসের বাড়ি একই উপজেলার সীতারামপুর এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সদস্য এবং বিভিন্ন জেলা থেকে মাদক সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম মহানগরীতে সরবরাহের কাজে জড়িত ছিল।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া গাঁজা চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাদকের প্রকৃত উৎস, সরবরাহকারী এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এ ঘটনায় আকবরশাহ থানায় মামলা নং-২৮, তারিখ ১৫ জুন ২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আসামিদের যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে প্রেরণ করা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মাদক নির্মূলে সিএমপি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আকবরশাহ ও আশপাশের এলাকায় সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button