অপরাধআইন ও বিচার

বিসিআইসির বদলি আদেশের ১১ দিন পরও সিইউএফএলে বহাল কর্মকর্তা কামরুল, নেপথ্যে বড় সিন্ডিকেটের সুরক্ষার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক জারি করা বদলি আদেশের ১১ দিন পার হলেও এখনো পূর্বের কর্মস্থলেই বহাল রয়েছেন চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেড (সিইউএফএল)এর উপ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. কামরুল ইসলাম খন্দকার। এ ঘটনাকে ঘিরে সিইউএফএল অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাকে কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র না দিয়ে রাখার পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী মহলের তদবির এবং অভ্যন্তরীণ স্বার্থের হিসাব।

গত ১০ জুন বিসিআইসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. মাসুদ পারভেজ স্বাক্ষরিত এক দপ্তর আদেশে কামরুল ইসলাম খন্দকারকে কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডে (কেপিএম) বদলি করা হয়। সরকারি চাকরির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা থাকলেও ১১ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি সিইউএফএলেই দায়িত্ব পালন করছেন। একাধিক সূত্রের দাবি, সিইউএফএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান কামরুল ইসলামকে ছাড়পত্র দিতে অনাগ্রহী এবং তাকে ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে আসা কর্মকর্তার যোগদান প্রক্রিয়াও বিলম্বিত করার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সার পরিবহন ও লোডিং কার্যক্রম। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সিইউএফএল থেকে সার উত্তোলনের সময় ডিলারদের কাছ থেকে প্রতিটি ট্রাকের বিপরীতে ১ হাজার ৩০০ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। দৈনিক গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি ট্রাক লোড হলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। অভিযোগকারীদের মতে, এই অর্থ আদায়ের পেছনে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সূত্র জানায়, দেশের অন্যান্য সার কারখানার ডিলাররা এমন অভিযোগ ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করলেও সিইউএফএল-এর আওতাধীন কয়েকটি জেলার প্রায় ১৪৪ জন ডিলার দীর্ঘদিন ধরে এই অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের চাপে রয়েছেন। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত কৃষকদের ওপরও পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিইউএফএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, কামরুল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়নি। তার কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে। সেগুলো শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাকপ্রতি অর্থ আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই; তবে অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
তবে কারখানার অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। তাদের অভিযোগ, অসমাপ্ত কাজের অজুহাত দেখিয়ে বদলি কার্যকর বিলম্বিত করা হচ্ছে এবং এর পেছনে প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে। এদিকে, সিইউএফএল-এর ব্যাগিং, স্ট্যাকিং ও ক্লিনিংসহ বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব অনিয়ম নিয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের আলোচনার সময় উচ্চ পর্যায়ে ব্যাপক তদবির চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, বদলি ঠেকাতে এবং প্রশাসনিক অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ ও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিসিআইসির দপ্তর আদেশ কার্যকর না হওয়ার পেছনে প্রকৃত কারণ কী, কার স্বার্থে একজন কর্মকর্তাকে দীর্ঘদিন একই পদে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সার ডিলারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু তা এখন সংশ্লিষ্ট মহলের তদন্ত ও জবাবদিহিতার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button