নাটোর সদর হাসপাতালে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন সুইপার গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর: নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন সুইপারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন অসুস্থ কন্যা শিশুকে নিয়ে নাটোর শহরের এক রিকশাচালকের স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি হন। ৭ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত এক সুইপার চিকিৎসার জন্য ওষুধ দেওয়ার কথা বলে তাকে কৌশলে ডেকে হাসপাতালের ছয়তলার সিঁড়িঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অপর দুই সুইপার গোপনে ভিডিও ধারণ করে এবং পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভুক্তভোগীকে পুনরায় ধর্ষণ করে।
এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে মা নিখোঁজ থাকায় শিশু ওয়ার্ডে থাকা শিশুটির কান্না শুরু হলে হাসপাতালের কর্মীরা বিষয়টি খেয়াল করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে রাতের দিকে হাসপাতালের ছয়তলা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেয়। পরে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে মঙ্গলবার (৯ জুন) ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে নাটোর থানায় মামলা দায়ের করেন।
নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং পরে বিষয়টি জানতে পারেন। অন্যদিকে সিভিল সার্জন বলেন, বিষয়টি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে পরে জানতে পেরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।



