অপরাধ

কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে নতুন অপরাধী চক্রের উত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ​গাজীপুরের কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচের এলাকাটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সেখানে এক নতুন অপরাধী চক্রের দাপট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এলাকাটিতে আগে যেসব ‘ড্যান্ডি গ্রুপ’ বা মাদকসেবী কিশোর গ্যাংয়ের নিয়মিত আড্ডা ছিল, তাদের জায়গা দখল করে নিয়েছে এই নতুন সিন্ডিকেট। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই পরিবর্তন বা নতুন গ্রুপের অরাজকতা প্রশাসনের চোখে পড়ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহকাল ধরে ফ্লাইওভারের নিচে সম্পূর্ণ অপরিচিত একদল যুবকের আনাগোনা বেড়েছে। এরা আগের ড্যান্ডি গ্রুপের চেয়ে অনেক বেশি সংঘবদ্ধ এবং বেপরোয়া। দিনের বেলাতেই এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পথচারীদের ওপর নজরদারি চালায় এবং রাতে শুরু হয় তাদের মূল অপতৎপরতা। পথচারীদের ব্যাগ টানা, মোবাইল ছিনতাই ও ইভটিজিং এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

ফ্লাইওভারের নিচে অবস্থিত দোকানগুলোর মালিকরা জানান, গত সাত দিন ধরে তাদের ব্যবসার পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগের গ্রুপটা চলে গেল, ভাবলাম এবার শান্তি আসবে। কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই নতুন এক চক্র এসে জায়গাটা দখল করে নিল। প্রশাসন কি এগুলো দেখে না? নাকি তাদের নজরের আড়ালেই এসব ঘটছে?”

জনবহুল এই এলাকায় অপরাধীদের এমন অবাধ বিচরণ স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। সচেতন মহলের মতে, যদি নিয়মিত টহল থাকতো, তবে নতুন কোনো চক্র এত দ্রুত সেখানে ঘাঁটি গাড়তে পারতো না। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে এলাকাটি এখন অপরাধীদের নিরাপদ অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে।

পোশাক শ্রমিক ও অফিসগামী সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, রাতের বেলা ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে চলাচল করা এখন আতঙ্কের বিষয়। যেকোনো সময় এই নতুন চক্রের হামলার শিকার হওয়ার ভয় কাজ করে।
​এলাকাবাসীর জোর দাবি, অচিরেই যদি কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচের এই নতুন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
​গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button