অপরাধদুর্নীতি

মিরপুর বিআরটিএ-তে দালাল ও ফাইল বাণিজ্য: সাময়িক বরখাস্ত আনসার কমান্ডার আল আমিন, প্রত্যাহার ৭ সদস্য

মো: জাকিরুল ইসলাম: মিরপুর- ১৩ বিআরটিএ-তে আনসার কমান্ডারের নির্দেশে তার বাহিনীর সদস্যরা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে l আনসার কমান্ডার আল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন ও ৭জন আনসার সদস্যকে মিরপুর বিআরটিএ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। তাদের স্থলে নতুন আনসার কমান্ডারসহ সদস্যরা এসেছেন । এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন কামরুল থানার আনসার কমান্ডার মোহাম্মদ আরিফ।

ঢাকা মহানগর আনসার পশ্চিম জোনের কাফরুল থানাধীন মিরপুর-১৩ বিআরটিএ-তে আনসার কমান্ডার ও সহকারি কমান্ডার সহ ২২ জন সদস্য কর্মরত রয়েছেন। আনসার কমান্ডার (পিসি) মোহাম্মদ আল আমিনের নেতৃত্বে অন্য সদস্যদের দিয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অবৈধ ভাবে বিআরটিএ-র বিভিন্ন বিভাগে ফাইলের তদবির-বাণিজ্য মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছেন কমান্ডার আল আমিন ।

এই বিআরটিএ-তে আনসার কমান্ডার হিসেবে আসতে হলে উপর লেবেলের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এখানে আসতে হয় বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। এবং জেলা কমান্ডার ও থানা কমান্ডারকে ম্যানেজ করে চলতে হয়। তারই ধারাবাহিক হিসেবে অর্থ উপার্জনের জন্য এপিসি-সহ অন্যান্য সদস্যদের দিয়ে অবৈধভাবে বিআরটিএ বিভিন্ন সেক্টরে গাড়ির ফাইল,গাড়ির সিরিয়াল আগে পিছে নেওয়া এবং দালালদের ফাইলের কাজ করেন একাধিক আনসার সদস্য।

অভিযোগে আরো জানা গেছে, বিআরটিএ সকল দালালদের কাছ থেকে সাপ্তাহ হিসেবে মোটা অংকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন আনসার কমান্ডার আল আমিন। পাশাপাশি সদস্যদেরও অর্থ উপার্জন হচ্ছে। এভাবেই আনসার কমান্ডার সিন্ডিকেট গড়ে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে দিয়ে ।

গত ২১ জুন দুপুরে ফিটনেস শাখার গেটের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা দুইটি প্রাইভেটকারকে আগের সিরিয়াল দেওয়ার জন্য আনসার সদস্য মোহাম্মদ সোহাগ ও মো: শামীম চালক ও স্বজনদের কাছ থেকে ২০০০ টাকা নেন। এর বিনিময় আগে সিরিয়ালের ব্যবস্থা করে দেন। প্রাইভেটকারের নাম্বার দুইটি হচ্ছে ঢাকা -মেট্রো-গ-২৪-৮৪৮২ , ঢাকা -মেট্রো -গ- ২৬-০৫৭৪ ।

এভাবে অসংখ্য গাড়ি রাস্তায় সিরিয়াল দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তাদের মধ্যে যারা আনসার সদস্য সোহাগ ও শামীমের সাথে যোগাযোগ করেন তাদেরকে অর্থের বিনিময়ে আগে সিরিয়াল ব্যবস্থা করে দেন। এমন ভাবে তারা দিনের পর দিন মাসের পর মাস নিরব সুকৌশলে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের অর্থ ।

অপরদিকে আনসার সদস্য রোকন, মানিক মিয়া, মোহাম্মদ আক্কাস, মতিয়ার, সাজু মিয়া ও মোঃ জহিরুল সহ আরো অনেকেই মিলে বিআরটিএ’র ভিতরে ও বাইরে গাড়ির ফাইল নিয়ে দৌড়ঝাপ এবং গ্রাহকদের সাথে মতবিনিময় করে কাজ করে যাচ্ছেন। গাড়ি ফাইল হাতে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সুকৌশলে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা।

পোশাক পরিহিত দায়িত্ব পালনে পাশাপাশি এইসব কাজ করে যাচ্ছে,তা সরজমিনে গেলে দেখা যায়। আনসার সদস্যদের মধ্যে যেন অর্থ উপার্জনের জন্য খাই খাই ভাব !

তাদের এই অপকর্মের ঘটনাগুলো বিআরটিএ’র কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না ?

এদিকে বিআরটিএ’র দালাল সুলতান আহমেদ, মাসুদ আলম ও কবির হোসেন-সহ আরো অনেকেই অভিযোগ করে জানান, আমরা সরাসরি যখন কাজ করতে পারি তখন নিজেরাই গাড়ির ফাইলের কাজ করি। আর যখন ফাইলের জটিল কাজ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসেন এ সময় আনসার সদস্যদের দিয়ে কাজগুলো করানো হয় অর্থের বিনিময়ে। এভাবেই প্রতিদিনের কাজগুলো করানো হয়।

এছাড়াও আনসার কমান্ডার নির্দেশে সহকারী কমান্ডার প্রতি সপ্তাহে বিআরটিএ যেসব দালালরা কাজ করে তাদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা নিয়ে থাকে । টাকা না দিলে আনসার সদস্যরা কাজ করতে দেওয়া হয় না। এমনকি বিআরটিএ’র আশপাশে থাকলে তখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে আমাদেরকে ধরার জন্য অভিযান শুরু করে। যাদেরকে ধরে তাদের মধ্যে দুই তিন জনকে জেল জরিমানা ব্যবস্থা করে। আবার দুই একজনকে অর্থের বিনিময়ে আনসার কমান্ডারে নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দালালদের অভিযোগ ।

আনসার সদস্য ও দালালরা মিলে বিআরটিএতে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির কাজ করার জন্য আগত গ্রাহকরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের এইসব দুর্নীতি ও অপকর্মের কর্মকাণ্ড গুলো বিআরটিএ’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দেখেও না দেখার ভান করে নিরব।

আনসার সদস্য ও দালালদের অভিযোগে জানা যায়, আমাদের মাধ্যমে বিআরটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অর্থ পাচ্ছেন। আমরা যেসব কাজ করি সবই অর্থের বিনিময়, অর্থ ছাড়া কোন কাজ করি না। তাই আমাদের দিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা লাভবান হচ্ছেন পাশাপাশি আমরাও কিছু অর্থ উপার্জন করছি । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আনসার সদস্য জানান, আমাদের ডিপার্টমেন্টের উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন ধরনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই আমাদের কে কাজ করতে হয় ।

এই ব্যাপারে কর্মরত আনসার কমান্ডার আল আমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই বিআরটিএতে বিভিন্ন ধরনের লোকজন কাজের জন্য আসেন। অনেকে নিজেরাই গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে যান আবার অনেকেই দালালের মাধ্যমে কাজ করেন। আমাদের সদস্যরা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গ্রাহকদেরকে একটু সাহায্য করে থাকেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগে কথা শুরু করলে তখন তিনি বলেন সরাসরি আপনি আসোন চায়ের দাওয়াত রইলো সাক্ষাতে বিস্তারিত কথা বলব ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button