ট্রেনের ইঞ্জিনে মাদক পাচার: আখাউড়ায় ১৫ কেজি গাঁজাসহ লোকোমাস্টার গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রেলপথের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের আড়ালে মাদক পাচারের এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর চিত্র উন্মোচন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে একটি মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ওই ট্রেনের প্রধান চালককে (লোকোমাস্টার) গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় কৌশলে পালিয়ে গেছেন ট্রেনের সহকারী লোকোমাস্টার।
র্যাব-৯ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘৬০৩ আপ কন্টেইনার এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি আখাউড়া জংশনে পৌঁছালে র্যাব সদস্যরা সেটির ইঞ্জিন (নম্বর-২৯৩১) অবরুদ্ধ করেন। এরপর ইঞ্জিনের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ১৫ কেজি গাঁজা এবং বেশ কিছু বোতল এসকফ (Escof) সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
মাদক পরিবহনের অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকেই ট্রেনের লোকোমাস্টার (গ্রেড-২) মো. শাহজাহান মিয়াকে (৫২) গ্রেফতার করে র্যাব। শাহজাহান মিয়া নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার কুতুবপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামের মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে। তবে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রেনের সহকারী লোকোমাস্টার দ্রুত সটকে পড়তে সক্ষম হন।
র্যাব জানিয়েছে, রেলওয়ের মতো একটি সংবেদনশীল খাতের পদের অপব্যবহার করে মাদক পাচারের এই ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গ্রেফতারকৃত লোকোমাস্টারকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে আজ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পলাতক সহকারী লোকোমাস্টারকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রেলপথে এমন মাদক পাচারের নেপথ্যে কোনো বড় সিন্ডিকেট জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।



