অপরাধ

বগুড়া পাসপোর্ট অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের রাজত্ব, ডিডি মানিক ও এডি আজিজের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

এম শাহীন আলম: বগুড়া জেলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে এসে সাধারণ গ্রাহকদের চরম ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অফিসে দালাল চক্রের প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে, অনেক গ্রাহক নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়ায় কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক (ডিডি) মানিক চন্দ্র দেবনাথ এর যোগদানের পর থেকে দালাল সিন্ডিকেট আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়,সরাসরি পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে গেলেই বিভিন্ন অজুহাতে বিভিন্ন ভুল ধরে ফেরত দেওয়া হয়। আর যখন দালালদের সাথে যোগসাজশ সহ বারতি টাকা দিয়ে পাসপোর্টের আবেদন করা হয় তখন কোন হয়রানি ছাড়াই আবেদনপত্রটি গ্রহন করা হয় সহজে। দালালদের সাথে গ্রাহক সেজে কথা হলে তারা জানান,প্রতি আবেদনে তারা রেগুলার পাসপোর্টের জন্য  ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা করে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেন। এই বারতি টাকা থেকে তারা প্রতি আবেদনে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা করে প্রতিদিন বিকালে অফিস খরচের টাকা দিতে হয় বগুড়া পাসপোর্ট অফিসের এডি আজিজ স্যার সহ সংশ্লিষ্টদের। সরেজমিনে দুজন দালালের সাথে কথা বললে তারা জানান, ডিডি মানিক স্যার যোগদানের পর পাসপোর্টের যতো সমস্যা থাকুক না কেন চ্যালেঞ্জের সহিত ১০০% সমাধান করতে পারি আমরা। আরেকজন দালাল জানান, বর্তমানে ডিডি স্যার আসার পর থেকে আমাদের মাধ্যমে কাজ করতে কোন সমস্যা হয় না। দালালদের ভাষ্য অনুযায়ী ডিডি এবং এডি’র সমন্বয় থাকার কারণে দালালদের কাজ করতে বর্তমানে সুবিধা জনক অবস্থানে আছেন তারা। এছাড়াও এক দালাল জানান,আমরা যারা কন্ট্রাকে কাজ করাই ভিতরের অফিসাররা আমাদের ফাইল দেখলেই বুঝতে পারে। আমাদের মাধ্যমে সকল কাজই সফল ভাবে হয়। কারণ আমরা যারা এই কাজের যুক্ত সবাই প্রতিদিনের হিসাব প্রতিদিন বিকালে পাসপোর্ট আবেদন গুনে গুনে প্রতি পাসপোর্টে ১ হাজার টাকা করে জমা দেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে কিছু ব্যক্তি নিজেদের বিভিন্নভাবে পরিচয় দিয়ে গ্রাহকদের কাছে দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, অফিসে সরাসরি আবেদন করতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হলেও দালালদের মাধ্যমে গেলে কাজ তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয়। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে দালালদের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, অনলাইন আবেদন, তথ্য সংশোধন, ছবি তোলা কিংবা পুলিশ ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত বিষয়ে তারা অযথা জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন। পরে দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে দ্রুত সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারা অফিসের ভেতর ও বাইরে প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। এ অবস্থায় সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা বলেন, পাসপোর্ট অফিসে সেবার মান উন্নয়ন, দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এতে জনগণের আস্থা ফিরবে এবং সরকারি সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে আরো বিস্তারিত পরের সংখ্যায় নতুন নতুন তথ্য নিয়ে ধারাবাহিক প্রকাশ করা হবে। 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button