বিনোদন

জানাজা ছাড়াই দাফনের অনুরোধ: বাউল শাহ আলম সরকারের বিস্ফোরক ওসিয়ত

বিনোদন ডেস্ক: দেশবরেণ্য বাউল শিল্পী ও কালজয়ী গীতিকার শাহ আলম সরকার তাঁর মৃত্যু-পরবর্তী দাফন-কাফন নিয়ে এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর ‘ওসিয়ত’ বা শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করতে এসে সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও ইউটিউবারদের সামনে তিনি নিজের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং এটি দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিশেষ অনুরোধ করেন। জনপ্রিয় এই শিল্পী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর কোনো জানাজার নামাজ ছাড়াই যেন তাঁকে সরাসরি কবরস্থ করা হয়।

শাহ আলম সরকার তাঁর এই ব্যতিক্রমী ওসিয়তের পেছনে বর্তমান সমাজের তথাকথিত ‘পেশাদার ইমামতি’ ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা মসজিদের ইমামতিকে কেবল একটি অর্থ উপার্জনের ‘ব্যবসা’ বা ‘চাকরি’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন, এমন কোনো মানুষের মাধ্যমে তিনি নিজের শেষ বিদায়ের প্রার্থনা সম্পন্ন করতে চান না।

এই আধ্যাত্মিক সাধক তাঁর ইচ্ছাপত্রে উল্লেখ করেন, যদি একান্তই জানাজা দিতে হয়, তবে যেন কোনো নির্লোভ স্থানীয় সাধারণ মুন্সি বা আলেম তা পড়ান, যিনি ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার বানাননি। আর যদি এমন কোনো মুখলেস আলেম খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক জানাজা ছাড়াই যেন তাঁর দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

বক্তব্য চলাকালীন শাহ আলম সরকার তাঁর এই অবস্থানের স্বপক্ষে ধর্মীয় ও যৌক্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জানাজা দিলেই জান্নাত নিশ্চিত হয়—এমন কোনো ধ্রুব নিশ্চয়তা নেই।” উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, স্বয়ং নবী কারিম (সা.) যাঁর (আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের মতো মুনাফিক) জানাজা দিয়েছেন, তাঁরই যদি জান্নাত নিশ্চিত না হয়, তবে বর্তমান সময়ের ব্যবসায়িক মনোভাবাপন্ন মানুষের জানাজা তাঁর আত্মিক কোনো উপকারে আসবে না। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, প্রতি বছর লঞ্চডুবি বা বড় দুর্ঘটনায় বহু মুসলমান জানাজা ছাড়াই নিখোঁজ বা দাফন হন, যা তাঁদের পরবর্তী জীবনের প্রতিবন্ধকতা নয়।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে এই শিল্পী আক্ষেপ করে বলেন, যুগে যুগে সুফিবাদের অনুসারীরা এক শ্রেণির মানুষের দ্বারা আক্রান্ত ও লাঞ্ছিত হয়েছে। তবে তিনি এ নিয়ে বিন্দুমাত্র ভীত নন। কোনো প্রকার ভয় বা সস্তা প্রচারণার উদ্দেশ্য ছাড়াই তিনি তাঁর অন্তরের গভীর থেকে এই বিশ্বাসের কথা দেশবাসীকে জানিয়ে দিতে চান।

শাহ আলম সরকারের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সুফি ঘরানার মানুষ ও তাঁর ভক্তদের মাঝে তাঁর এই সাহসী ও প্রথাভাঙা অবস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button