
বিশাল রহমান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :ঠাকুরগাও জেলার রুহিয়া থানাধীন ৩ নং রাজাগাঁও ইউনিয়ন খড়িবারি গ্রাম হাজী মার্কেটে
ভূমি আইন ও সরকারি বিধিমালাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে খড়িবাড়ী গ্রামের মহাদেব চন্দ্র কর্তৃক পূর্বের মূল জোদ্দার আবুল কাসেমের দ্বিতীয় সন্তান মোতাহার হোসেনের কাছ থেকে অবৈধভাবে জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম অসন্তোষ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খড়িবাড়ী মৌজার (জে.এল নং- ৪৮) ২২৩৩ ও ৩৪৭৮ এই দাগদুটি পি ও ৯৬/৭২ ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর আলোকে সরকার বরাবর বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। উক্ত নালিশি জমিটি আল আমীন সরকার আপীলে ভোগদখলীয় অবস্থায় রয়েছে। উপরোক্ত খতিয়ানে সম্পত্তির বৈধ প্রক্রিয়া ও আইনগত বাধার তোয়াক্কা না করে এই গোপন ও অবৈধ দলিল সম্পন্ন করা হয়েছে। ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান অনুযায়ী ৬০ বিঘার উর্ধ্বে মালিক হওয়া বা নির্দিষ্ট অর্পিত ও খাস প্রকৃতির জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, মূল জোদ্দার আবুল কাসেমের পরিবার আইনগতভাবে জমির পূর্ণ মালিকানা বা হস্তান্তরের একচ্ছত্র এখতিয়ার না রাখা সত্ত্বেও, তার দ্বিতীয় পুত্র মোতাহার হোসেনের সাথে যোগসাজশ করে মহাদেব চন্দ্র এই চতুরতার আশ্রয় নেন। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, মৌজাটির নিম্নোক্ত দাগে ২২৩৫, ২২৩৬,২২৩১,২২৩৪,২২৩৭ দাগগুলি নালিশি কার্যক্রমের জন্য আল আমীন সরকার পৈতৃক সূত্রে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত করে এই অবৈধ দলিলের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সরকারি সম্পত্তি বেহাত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় বড় ধরনের ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে। দলিল গ্রহীতা মহাদেব চন্দ্রের সাথে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। অবিলম্বে এই জালিয়াতিপূর্ণ দলিল বাতিল এবং প্রকৃত ভূমি আইন বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।



