নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত সরকারের ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির চাল ও আটা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ এবং তা কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ অনুসন্ধানে গিয়ে ‘দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন’ পত্রিকার এক সাংবাদিকের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে খাদ্য বিভাগের ওএমএস পরিদর্শক মুহাম্মদ হোসেন মামুন, উপ-খাদ্য পরিদর্শক সোহরাফ হোসেন, উপ-খাদ্য পরিদর্শক ইকবাল হোসাইন, ঢাকা রেশনিংয়ের এআরও তারিকুজ্জামান, ডিলার তাজউদ্দীন মাহমুদ, কায়েস উদ্দিন ও জিন্নাত আলীসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৬–৭ জন বহিরাগতকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সরকারের ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা বিক্রির ওএমএস কার্যক্রমে নির্ধারিত নিয়ম মানা হচ্ছিল না। কিছু ডিলার লোকদেখানোর জন্য অল্প সময় চাল-আটা বিক্রির,পর অবশিষ্ট খাদ্যশস্য, খাদ্য বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সরিয়ে পাইকারি বাজারে বিক্রি করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্যে ‘দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন’-এর সিনিয়র রিপোর্টার মো. শফিকুল বাশার সংশ্লিষ্ট পয়েন্ট ও ট্রাকের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।১। লালবাগ থানার বালুর মাঠ পার্কের সামনে ডিলার কায়েস উদ্দিনের ট্রাকেসেলে চাল শেষ ১২,৪০ মিঃ সময়ে
গ্রাহকদের নিকট আটা বিক্রয় হচ্ছ।
২। কামরাঙ্গীচর খোলামোড়া খেয়াঘাট এলাকায় ডিলার তাজউদ্দীন মাহমুদের চালের ট্রাক স্থনীয়দের ভাষ্যমতে বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে স্টেশনে পৌঁছায়। কিন্তু জোহরের আজানের সময় অর্থাৎ বেলা ১টা ০৫ মিনিটে ওএমএস’র ট্রাকটি উধাও হয়ে যায়।
৩।কামরাঙ্গীরচর ঝাউচর দরবার শরীফ এলাকায় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের পর ডিলার জিন্নাত আলীর ওএমএসের ট্রাকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নির্ধারিত স্পটে ওএমএসের ট্রাকসেল না পেয়ে সাংবাদিক শফিকুল বাশার দায়িত্বরত খাদ্য পরিদর্শক মুহাম্মদ হোসেন মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানতে চান।
সে এলাকায় নাই,বিষয়টি দেখবেন।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (এরিয়া রেশনিং অফিসার) তারিকুজ্জানের কাছে ট্রাকসেল বিষয়ে অভিযোগ শু ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
সাংবাদিকের উপর এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন সাংবাদিকের দফা ঠান্ডা। এআরও,কে জানানো অপরাধ হিসেবে গন্য করা হয়।
, ঊর্ধ্বতন এরিয়া রেশনিং কর্মকর্তাকে কেন জানানো হলো—এই ক্ষোভ থেকে মোহাম্মদপুর ট্রাক টার্মিনাল এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে খাদ্য পরিদর্শক মুহাম্মদ হোসেন মামুন কয়েকজন সন্ত্রাসী সহযোগীকে নিয়ে তার গতিরোধ করেন। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কৃত্রিম ‘মব’ তৈরির করা হয়। এবং তার ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। মারধরের একপর্যায়ে ওই সাংবাদিককে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে অপহরণ করার চেষ্টা চলে। যার বিডিও ফুটেজ রয়েছে।
তার চিৎকারে পাশের চা দোকানদার, ট্রাক শ্রমিক এবং টার্মিনাল পরিচালনা কমিটির সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, ওএমএসের চাল-আটা চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং অনুসন্ধানী তথ্য প্রকাশ ঠেকাতেই এ হামলা ও অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া পরিদর্শক মামুন প্রকাশ্যে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
এদিকে, ওএমএস কার্যক্রমে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগের বিষয়ে পরিদর্শক মুহাম্মদ হোসেন মামুনসহ সংশ্লিষ্ট ডিলার ও খাদ্য বিভাগের পরিদর্শকদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কারোরই কোনো বক্তব্য পাওয়া



