
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মিরপুর-১ এ অবস্থিত “লন্ডন আবাসিক হোটেলের” ৮ম তলায় লিফট ব্যবহার করে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটির আড়ালে নিয়মিত মাদক ও জুয়ার আসর বসানোর পাশাপাশি নারীদের দিয়ে অনৈতিক ব্যবসা চালিয়ে আসছে একটি অসাধু চক্র।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে হোটেল কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে এবং প্রকাশ্যে থানা পুলিশকে “ম্যানেজ” করে ব্যবসা পরিচালনার বিস্ফোরক দাবি করে।এছাড়াও আরও ইনভেস্টিকেশন করে জানা যায় প্রজাপতি হোটেলে এমন অনৈতিক কার্যক্রোম চলে
হোটেল ম্যানেজারের ঘুষের স্বীকারোক্তি:সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন গভীর রাত হলেই হোটেলের ৮ তলায় বহিরাগত ও অপরিচিত নারী-পুরুষের আনাগোনা বাড়ে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলে হোটেল কর্তৃপক্ষ ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে।
অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে গেলে হোটেলের ম্যানেজার মনির সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে ম্যানেজার মনির বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “আমরা থানা ম্যানেজ করেই চলি। ওসির টেবিলে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের খাম যায়। আমাদের সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় নাই।” পরবর্তীতে হোটেল মালিক জহিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ম্যানেজারের অপরাধের অতীত:স্থানীয়দের দাবি, ম্যানেজার মনির কিছুদিন আগেই একটি ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামিনে থেকে পুনরায় এই অনৈতিক বাণিজ্যের সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। তবে তাঁর বর্তমান আইনি অবস্থার বিষয়টি অধিকতর খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:থানা ম্যানেজ ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “পুলিশকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবাস্তব। এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা এখনো পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী মিরপুরের লন্ডন আবাসিক হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, ট্রেড লাইসেন্স ও অনুমোদন পর্যালোচনার মাধ্যমে অনৈতিক সিন্ডিকেটের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
মিরপুর-১ এর লন্ডন আবাসিক হোটেলের আড়ালের মূল হোতা জহিরুল ইসলাম ও অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের গোপন যোগসাজশের বিস্তারিত নথি নিয়ে চোখ রাখুন ‘অপরাধ বিচিত্রা’-র আগামী সংখ্যায়…



