ইসলাম ধর্ম

এক সাহাবি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “হে আবু বকর, আপনি কাঁদছেন কেন?”

তিনি চোখের জল মুছে মৃদুস্বরে উত্তর দিলেন, “আমি দেখছিলাম আল্লাহর রাসুল ﷺ কাঁদছেন; তাই তাঁর চোখের জল দেখে নিজের অজান্তেই আমার চোখ ভিজে উঠেছে।”

প্রিয়তমের আনন্দ দেখলে হাসতে সবাই পারে, কিন্তু প্রিয়তমের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ নিজের চোখে বয়ে নেওয়া—এটাই তো প্রকৃত প্রেম।

ভালোবাসা মানে জুবাইর (রা.):

মক্কার অলিতে-গলিতে গুজব রটেছে—প্রিয় নবী ﷺ শহিদ হয়েছেন! মাত্র পনেরো বছরের এক কিশোর খবরটি শুনেই স্থির থাকতে পারলেন না। খাপ থেকে তলোয়ার বের করে বেরিয়ে পড়লেন মক্কার রাজপথে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ইসলামের ইতিহাসে ওটাই ছিল আত্মরক্ষার তাগিদে প্রথম খাপমুক্ত হওয়া তলোয়ার। বয়সের অপক্বতা তাঁকে বাধা দিতে পারেনি, কারণ ভালোবাসা বয়সের হিসাব মানে না।

ভালোবাসা মানে বনু দ্বীনার গোত্রের সেই নারী:

উহুদ যুদ্ধে তাঁর স্বামী, বাবা এবং ভাই—তিনজনই শহিদ হয়েছেন। তাঁকে যখন এই শোকসংবাদ দেওয়া হলো, তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হলেন না। অস্থির হয়ে শুধু একটি কথাই জিজ্ঞেস করছিলেন, “আল্লাহর রাসুল ﷺ কেমন আছেন?”

যখন তিনি নবীজিকে সশরীরে সুস্থ দেখলেন, তখন প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আপনি ভালো থাকলে জগতের সব বিপদই আমার কাছে অতি সামান্য।”

ভালোবাসা মানে রাসুল ﷺ-এর সেই আকুতি:

তিনি যখন পৃথিবীর সব মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে অকপটে বলেন—“আয়েশাকে নিয়ে তোমরা আমাকে কষ্ট দিও না।”

ভালোবাসার মানুষকে আগলে রাখার এমন সপ্রতিভ ঘোষণা আর কোথায় মিলবে?

ভালোবাসা মানে গর্তে ঢোকার আগে আবু বকর (রা.)-এর সেই সতর্কতা:

হিজরতের সময় গুহায় প্রবেশের আগে তিনি নবীজিকে বললেন, “আল্লাহর কসম! আপনি আগে ঢুকবেন না। আগে আমি ঢুকব। ভেতরে যদি ক্ষতিকর কিছু থাকে, তবে যেন সেটা আমাকেই আগে আঘাত করে, আপনাকে নয়।”

নিজের জীবনকে প্রিয়জনের জন্য ঢাল বানিয়ে দেওয়ার নামই তো ভালোবাসা।

ভালোবাসা মানে বিলাল (রা.):

নবীজি ﷺ-এর বিদায়ের পর যিনি আজান দেওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। কারণ ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ বলতেই তাঁর বুক ফেটে কান্না আসত।

বহু বছর পর খলিফা উমর (রা.)-এর অনুরোধে বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়ের দিন যখন তিনি আবার আজান দিতে দাঁড়ালেন, সেদিন কান্নার এমন রোল পড়েছিল যে মদিনার সেই দিনগুলোর কথা মনে করে সবার চোখ ভিজে গিয়েছিল।

ভালোবাসা মানে তৃষ্ণার্ত আবু বকর (রা.):

হিজরতের দীর্ঘ পথ। প্রচণ্ড গরমে এক পাত্র দুধ জোগাড় করে নবীজির সামনে এগিয়ে দিলেন। আবু বকর (রা.) বলেন, “নবীজি পান করলেন, আর তৃপ্তি পেল আমার তৃষ্ণার্ত কলিজা।”

পৃথিবীর সেরা রসায়ন এটাই—খাবেন আপনি, আর তৃপ্ত হব আমি!

ভালোবাসা মানে সাওবান (রা.):

যাঁর গায়ের রং ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল বিরহে। নবীজি জিজ্ঞেস করলেন, “সাওবান, তোমার কী হয়েছে?”

তিনি কাঁপা গলায় বললেন, “আমার কোনো অসুখ হয়নি, হে আল্লাহর রাসুল। কিন্তু আপনাকে না দেখলে আমার মনের ভেতর কেমন যেন শূন্যতা আর হাহাকার শুরু হয়। যতক্ষণ না আপনার দেখা পাই, ততক্ষণ শান্তি পাই না।”

ভালোবাসা মানে রাবিয়া ইবন কাব (রা.):

নবীজি খুশি হয়ে বললেন, “রাবিয়া, কিছু চাও আমার কাছে।”

রাবিয়া দুনিয়ার ধন-সম্পদ চাইলেন না। তিনি বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, জান্নাতেও যেন আপনার সঙ্গ পাই, আমি শুধু সেটুকুই চাই।”

ভালোবাসা মানেই আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ। তিনি আমাদের জন্য কাঁদতেন, আমাদের জন্য প্রার্থনা করতেন। এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে কৃপণতা করা কি সাজে?

তাই, স্ক্রল করে উপরে যাওয়ার আগে একবার দরুদ পড়ে নিন সেই মহামানবের প্রতি, যিনি আপনার-আমার শাফাআতের কাণ্ডারী।

আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়াসাল্লিম
আলা নাবিয়্যিনা মোহাম্মদ 🌸🌺
اللهم صل وسلم على نبينا محمد ﷺ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button