ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার ভাতার নামে সরকারী টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ প্রতারক আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে

অপরাধ বিচিত্রা: যশোর ঝিকরগাছা কীর্তিপুর এলাকার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নওশের আলীর মুক্তিযোদ্ধা সরকারী ভাতার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন ছেলে, প্রতারক আলাউদ্দিন। ঝিকরগাছা এলাকার একাধিক সূত্রে জানা যায়, আলাউদ্দিন একজন মামলাবাজ, এলাকার ধান্দাবাজ, চাঁদাবাজ, উশৃংখল এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, চেক জালিয়াতি, অটো রিস্কা, ইজি বাইক ছিনতাই করা। নির্ভরযোগ্য আরো সূত্রে পাওয়া যায়, বেনাপোল থেকে প্রতারণা করে মাসে লক্ষ লক্ষ অবৈধ টাকা কামান।এলাকার এক মুক্তিযোদ্ধা থেকে জানা যায় যে, আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে বাঁচতে ঝিকরগাছা এলাকার কূটনীতি বুদ্ধিদাতা সোহাগ থেকে (০১৭১২২১২৫১৫) বুদ্ধি নিয়ে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলীকে হয়রানি করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চেকের মাধ্যমে টাকা পাবেন বলে আদালতে ভূয়া মামলা করেন।
আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের সত্যতা জানতে চাইলে তার ব্যবহৃত (০১৭১২৭১০৩৪৮) নাম্বারে ফোন দিয়ে অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন, তার বাবার নামে মুক্তিযোদ্ধার সরকারী ভাতা আত্মসাৎ করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি অপকটে স্বীকার করেন, তবে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিনা মর্মে ডকুমেন্টস কাগজপত্র দেখাতে পারেননি, অপরাধ বিচিত্রার অফিসে ডকুমেন্টস পাঠানোর কথা থাকলেও পরবর্তীতে পাঠাইনি। আলাউদ্দিন পেশায় একজন ট্রাক চালক হলেও বিএনপি সরকারের ক্ষমতার দাপট এবং এলাকার সোহাগের পাওয়ারে রাজত্ব ও বিভিন্ন সিন্ডিকেট করে নিজেদের পেট চালানোর ধান্দা খুঁজে বেড়ান। আলাউদ্দিনের বাবা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী ২০০৯ ইং সালে ইন্তেকাল করলেও ২০০৭ ইং সাল থেকে ২০১৬ ইং পর্যন্ত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নামে ভাতা উত্তোলন-আত্মসাৎ করতেন আলাউদ্দিন।
বিগত ২০০৫ ইং সালে বিএনপি সরকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতার গেজেট প্রকাশ করেন। গেজেট প্রকাশ করার পর থেকে ২০০৭ ইং সাল থেকে প্রতি মাসে প্রথমে (১০ হাজার টাকা) করে, পরবর্তীতে (২০ হাজার টাকা) করে ভাতা তুলতেন। একই সাথে দুই ঈদে দুইটি বোনাস (২০ হাজার টাকা), ১৬ই ডিসেম্বরে (৫ হাজার টাকা), পহেলা বৈশাখে (২০০০ টাকা) সহ বছরে ৪টি বোনাসও তুলতেন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলীর নামে ছেলে আলাউদ্দিন। পরবর্তীতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৭ ইং সালে মরহুম নওশের আলীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতাটি বাতিল করে দেন কর্তৃপক্ষ। ঝিকরগাছা একাধিক মুক্তিযোদ্ধাদের থেকে জানা যায় যে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নওশের আলীর একই গ্রামের, ফিল্ড কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুস সাত্তার বলেছেন, নওশের আলী কোন মুক্তিযোদ্ধা নয়, ওনী একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, সে কোথায় যুদ্ধ করেছেন এর কোন প্রমাণ বা তার কোন বৃত্তি নেই।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, ২৬ সালের গত আগস্ট মাসে ইন্তেকাল করেন। একই গ্রামের আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলীয়ার রহমানও, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নওশের আলীর ব্যাপারে মন্তব্য করে বলেছিলেন যে, তিনি কোন মুক্তিযোদ্ধা নয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুস সাত্তার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলীয়ার রহমান এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নওশের আলী, ঝিকরগাছা কীর্তিপুর একই গ্রামের বাসিন্দা। আব্দুস সাত্তার এবং আলিয়া রহমান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির উপজেলা প্রধানও ছিলেন। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী এবং তার ছেলে আলাউদ্দিনের কর্মকাণ্ড এবং ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার রাজ সাক্ষী হিসেবে যারা বর্তমানে বেঁচে আছেন। তারা হলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী এবং আ: অহী। মরহুম নওশের আলী এবং ছেলে আলাউদ্দিনের প্রতারণা ছিনতাই, মামলা বাণিজ্যের কু-কর্মের বিস্তারিত আগামী পর্বে চোখ রাখুন, অনুসন্ধান চলছে।



