অনুসন্ধানঅভিযান

দল বদলের অভিযোগে বিতর্কে শওকত-ফয়সাল পুরোনো রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার ছবি ঘিরে প্রশ্ন

মো: জাকিরুল ইসলাম :
দীর্ঘদিন একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বর্তমানে নিজেদের ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট এলাকায়। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় ব্যবহার করে তারা এলাকায় দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবিতে শওকত আলী, আব্দুল হাই ও ফয়সাল আলীকে একসঙ্গে দেখা যায়। ছবিটির সঙ্গে থাকা লেখায় তাদের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে ছবিটি কোন সময়, কোথায় এবং কী প্রেক্ষাপটে তোলা—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারকারী কিছু ব্যক্তি বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর নিজেদের বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এ ধরনের ব্যক্তিরা নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ খুঁজছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের আড়ালে কেউ কেউ পুরোনো রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখছেন। এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানে গোপনে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা মিছিল সংগঠনে অর্থসহায়তার অভিযোগও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনের নথি, প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন বা অতীতের কারও সঙ্গে ছবি থাকা নিজে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। কারও বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, অর্থসহায়তা বা রাজনৈতিক অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।
অপরাধ বিচিত্রা-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা, আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রমাণভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button