বৌদ্ধ বিহারের আড়ালে পাহাড় কাটার অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে পরিবেশ রক্ষা

মুহাম্মদ জুবাইর: চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ এলাকায় ‘প্রজ্ঞা-সুগত বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কেন্দ্র’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে সেখানে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এতে ওই এলাকার পাহাড় ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আজ ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে নগরের বায়েজিদ লিংক রোডের ৬ নম্বর ব্রিজসংলগ্ন সুপারীবাগান এলাকায় গিয়ে পাহাড় কাটার দৃশ্য দেখা যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন শ্রমিককে পাহাড় কাটতে দেখা গেলেও সংবাদকর্মীরা ভিডিও ধারণ শুরু করলে তাঁদের কয়েকজন দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনাস্থলে একটি টিনের ঘর দেখা যায়। ঘরটির সামনে ঝোলানো একটি সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে-‘প্রজ্ঞা-সুগত বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কেন্দ্র’। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এটি বৌদ্ধদের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও এর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে জায়গা সমতল করার কাজ চলছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পাহাড় কেটে প্রথমে বড় একটি অংশ সমতল করা হয়েছে। পরে সেখানে টিনের ঘর তৈরি করে প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে পাহাড় কাটার কাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি প্রথমে সংবাদকর্মীর পরিচয় জানতে চান। পরিচয় জানার পর তিনি বলেন, তিনি ‘ব্যস্ত’ এবং ‘মিটিংয়ে’ আছেন। পরে কথা বলবেন বলে জানান। এ বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পাহাড় কাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে চাইলে তাঁরা অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগ পেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পরিদর্শন করা হবে।
এদিকে পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হলেও নগরের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকেরা।
আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের বিষয়গুলো তাঁদের নজরে আসে। পাহাড় কাটার সময় যাঁদের পাওয়া যায়, তাঁদের আটক করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পাহাড় ও পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও ভূমি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া দরকার। তাঁর অভিযোগ, দিনের পর দিন পাহাড় কেটে জায়গা দখলের ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায় না।
তিনি বলেন, বর্তমানে যে হারে পাহাড় কাটা হচ্ছে, তাতে চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো ধ্বংস হতে বেশি সময় লাগবে না। প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা নেতাসহ বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে কেউ পাহাড় কেটে দখল করছেন-এমন অভিযোগও রয়েছে।



