জাতীয়

জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করেই ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন করা হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মো:এনামুল হক পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও পথ অনুসরণ করেই ভারতের সাথে আগামী ফারাক্কা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। একই সাথে নদী ও খাল পুনরুদ্ধারে কোনো রাজনৈতিক ও দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে নদী ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘নোঙর বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে মহানন্দা নদী এলাকায় ‘নোঙর রিভার ক্যাম্প’-এর উদ্বোধন ও নদী এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫৪টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। এসব নদীতে দেশের আন্তর্জাতিক অধিকার ও পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

ফারাক্কা চুক্তির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “৩০ বছর মেয়াদি ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলায় নতুন করে চুক্তি নবায়নের জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের স্বার্থ রক্ষা করে আন্তর্জাতিক দরকষাকষি করেছিলেন, সেই পথ অনুসরণ করেই চুক্তি করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কমিটি তাদের কাজ পরিচালনা করছে।”

নদী দখল ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দেশে খনন ও পুনর্দখলমুক্ত করা নদী, খাল বা জলাশয় পুনরায় দখলের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো ধরনের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দেখা হবে না।

এর আগে মন্ত্রী মহানন্দা নদীর সীমান্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং আয়োজকদের হাতে নোঙর রিভার ক্যাম্পের পতাকা তুলে দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে তিনি তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘নোঙর বাংলাদেশ’-এর এই নদী রক্ষা আন্দোলন পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলা অতিক্রম করে টেকনাফে গিয়ে সমাপ্ত হবে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম.এ মজিদ, তেঁতুলিয়ার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম আঁকাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, নোঙর বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুমন সামস, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমসহ স্থানীয় প্রশাসন, বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও পরিবেশবাদী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button