ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের সুরক্ষায় জরুরি ১৫টি টিপস
স্বাস্থ্য ডেস্ক: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পায়ের নিয়মিত যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে স্নায়ুর ক্ষতি (নিউরোপ্যাথি) এবং রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এর ফলে পায়ে সাধারণ আঘাত, ফোসকা বা ছোট ক্ষত থেকেও তৈরি হতে পারে গুরুতর সংক্রমণ, যা সময়মতো চিকিৎসা না করালে গ্যাংগ্রিন কিংবা অঙ্গহানির (অ্যাম্পুটেশন) মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা প্রতিরোধে ও পায়ের সার্বিক সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নির্দেশিত জরুরি ১৫টি নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক:
১. প্রতিদিন পা পরীক্ষা করা: প্রতিদিন অন্তত একবার দুই পায়ের পাতা, গোড়ালি ও আঙুলের চারপাশ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।
২. ক্ষত বা লালচে ভাব না এড়ানো: পায়ে কোনো কাটাস্থান, ফোসকা, ফোলাভাব বা লালচে দাগ চোখে পড়লে তা সামান্য হলেও অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
৩. হালকা গরম পানিতে পা পরিষ্কার: প্রতিদিন হালকা গরম পানি ও মৃদু সাবান দিয়ে পা পরিষ্কার করুন। তবে পানি অতিরিক্ত গরম কি না, তা আগে হাত দিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।
৪. আঙুলের ফাঁক শুকনো রাখা: পা ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে মেছে পা শুকিয়ে নিন। বিশেষ করে পায়ের আঙুলের মধ্যবর্তী স্থান পুরোপুরি শুকনো রাখা জরুরি, তা না হলে ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে।
৫. সঠিক নিয়মে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: ত্বকের শুষ্কতা ও ফেটে যাওয়া রোধে ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। তবে আঙুলের ফাঁকে ময়েশ্চারাইজার লাগানো থেকে বিরত থাকুন।
৬. সাবধানে নখ কাটা: পায়ের নখ সব সময় সোজা করে কাটুন। নখের কোণ খুব গভীরে বা বাঁকা করে কাটতে গিয়ে চামড়া কেটে ফেলা যাবে না।
৭. খালি পায়ে না হাঁটা: ঘরের ভেতরে কিংবা বাইরে—কখনোই খালি পায়ে হাঁটা যাবে না। ঘরেও নরম ও আরামদায়ক স্যান্ডেল ব্যবহার করুন।
৮. পরিষ্কার ও আরামদায়ক মোজা পরুন: প্রতিদিন পরিষ্কার, শুকনো, সুতি বা উলের নরম মোজা পরুন। অতিরিক্ত টাইট মোজা ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
৯. জুতা পরীক্ষার অভ্যাস: জুতা পরার আগে প্রতিবার জুতার ভেতরে হাত দিয়ে দেখে নিন কোনো পাথর, বালি বা ধারালো অংশ রয়েছে কি না।
১০. অতিরিক্ত তাপ থেকে পা দূরে রাখা: গরম পানির ব্যাগ, হিটার বা আগুনের সরাসরি তাপ থেকে পা দূরে রাখুন, কারণ স্নায়ুর অনুভূতি কমে যাওয়ায় পা পুড়ে গেলেও রোগী তা বুঝতে পারেন না।
১১. কড়া বা ফোসকা নিজে না কাটা: পায়ে কড়া (Callus) বা ফোসকা পড়লে নিজে ব্লেড, কাঁচি বা ধারালো কিছু দিয়ে তা কাটার চেষ্টা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
১২. অননুমোদিত কেমিক্যাল বর্জন: ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো প্রকার কেমিক্যালযুক্ত কর্ন রিমুভার বা প্রসাধন সামগ্রী পায়ে ব্যবহার করবেন না।
১৩. নিয়মিত সেনসেশন পরীক্ষা: পায়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক আছে কি না এবং স্পর্শ অনুভূতি ঠিক রয়েছে কি না, তা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়মিত পরীক্ষা করান।
১৪. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা: নিয়মিত ওষুধ, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা পায়ের সুরক্ষার মূল শর্ত।
১৫. জরুরি অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া: পায়ে যেকোনো ধরনের গভীর ক্ষত, পুঁজ জমে থাকা, পা ফুলে যাওয়া, কালচে বর্ণ ধারণ করা কিংবা তীব্র ব্যথা দেখা দিলে দেরি না করে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।



