নামমাত্র খরচে বিশ্বমানের নিউরো চিকিৎসা ও ঘরে বসে অনলাইনে টিকিট কাটার সহজ উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক: আমাদের চারপাশে প্রায়শই ব্রেন স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, তীব্র মাথাব্যথা কিংবা হঠাৎ কোনো স্নায়ুর জটিল সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন অনেকে। এই ধরনের সংকটময় মুহূর্তে রোগীর শারীরিক কষ্ট ও পরিবারের আকুলতার সঙ্গে যুক্ত হয় হাসপাতালে দীর্ঘ লাইন, দালাল চক্র ও টিকিটের চরম ভোগান্তি। তবে আশার কথা হলো, রাজধানী ঢাকার আগারগাঁও শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NINS)-এ এখন আধুনিক ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় এসব দুর্ভোগ ছাড়াই বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
ঘরে বসেই অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়ম
দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝরঝামেলা এড়াতে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে টিকিট কেটে নির্দিষ্ট সময়ে ডাক্তার দেখানো সম্ভব।
- ওয়েবসাইট: https://eappointment.dghs.gov.bd/
- পদ্ধতি: লিংকে প্রবেশ করে হাসপাতাল হিসেবে “National Institute of Neurosciences & Hospital” সিলেক্ট করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য ও সময় নির্ধারণ করে টিকিট কনফার্ম করতে হবে। পূর্বের কোনো হাসপাতালের রিপোর্ট থাকলে সেই টিকিট কেটেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায়।
জরুরি লক্ষণ: কখন দ্রুত এই হাসপাতালে নিয়ে আসবেন?
স্নায়ুজনিত সমস্যায় এক মুহূর্তও দেরি না করে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত এই হাসপাতালে নিয়ে আসা উচিত:
- হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া (স্ট্রোকের লক্ষণ)।
- হঠাৎ অচেতন হয়ে যাওয়া কিংবা বারবার খিঁচুনি হওয়া।
- সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে মাথায় কিংবা মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়া।
- অসহ্য মাথাব্যথা, ঘন ঘন বমি বা চোখে ঝাপসা দেখা।
নামমাত্র খরচে বিশ্বমানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা
বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেখানে চড়া মূল্যে এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করাতে হয়, সেখানে এই সরকারি হাসপাতালে সরকার নির্ধারিত নামমাত্র ফি-তে সব পরীক্ষা করা যায়। আনুমানিক খরচের একটি চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
- CT Scan: ২,০০০ – ৪,০০০ টাকা
- MRI: ৩,০০০ – ৫,০০০ টাকা
- X-Ray: ১৫০ – ৩০০ টাকা
- EEG / EMG / ECG: ১৫০ – ৫০০ টাকা
- রক্ত ও অন্যান্য পরীক্ষা: মাত্র ৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।
যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ
দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা এখন খুবই সহজ। সরাসরি মেট্রোরেলে চড়ে “আগারগাঁও স্টেশন”-এ নেমে মাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিট হাঁটলেই বিজ্ঞান জাদুঘরের পাশেই হাসপাতালটিতে পৌঁছে যাওয়া যায়। এ ছাড়া আগারগাঁও মোড় বা তালতলা থেকেও রিকশায় খুব সহজে যাওয়া সম্ভব।
সঠিক সময়ে এমন একটি তথ্য জানা থাকলে একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি একটি পরিবার বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক সংকট থেকে মুক্তি পেতে পারে।



