তেলাকুচা পাতার ৫০ উপকারিতার দাবি, কী বলছে গবেষণা
অনলাইন ডেস্ক: তেলাকুচা পাতার ঔষধি গুণাগুণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নানা দাবি। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, জন্ডিস নিরাময়, কৃমি দূর করা, হজমের সমস্যা কমানো, ত্বক ও চুলের যত্ন এবং হৃদ্যন্ত্র ও কিডনি সুস্থ রাখার মতো বিষয়। তবে এসব উপকারিতার সবকটির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
তেলাকুচা (Coccinia grandis) দক্ষিণ এশিয়ায় পরিচিত একটি উদ্ভিদ, যার পাতা ও অন্যান্য অংশ ঐতিহ্যগতভাবে খাবার এবং ভেষজ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। উদ্ভিদটির সম্ভাব্য ঔষধি গুণাগুণ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে কিছু মানব-গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণার ফল থেকে তেলাকুচা পাতাকে ডায়াবেটিসের নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
২০২১ সালে Phytomedicine সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নতুনভাবে শনাক্ত টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে তেলাকুচা থেকে তৈরি একটি নির্দিষ্ট ভেষজ প্রস্তুতির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও সব পরীক্ষিত সূচকে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। গবেষণাটিতে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট প্রস্তুতির ফলকে ঘরে তৈরি কাঁচা পাতার রসের কার্যকারিতার সমতুল্য ধরা যায় না।
তেলাকুচা পাতা জন্ডিস, কৃমি, ফ্যাটি লিভার, কিডনির রোগ, হাঁপানি, আলসার, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা বিভিন্ন চর্মরোগ সারায়—এমন দাবির ক্ষেত্রে আরও নির্ভরযোগ্য মানব-গবেষণা ও চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন। কোনো উদ্ভিদের নির্যাস নিয়ে পরীক্ষাগারে বা প্রাণীর ওপর গবেষণায় সম্ভাব্য উপকারিতা দেখা গেলেই মানুষের এসব রোগ নিরাময়ে তার কার্যকারিতা নিশ্চিত হয় না।
তেলাকুচা পাতা সবজি হিসেবে খাওয়া এবং সেটিকে রোগের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা এক বিষয় নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নির্ধারিত ওষুধ বন্ধ করে পাতার রস সেবন করবেন না। ভেষজ উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং ওষুধের সঙ্গে সম্ভাব্য পারস্পরিক ক্রিয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জন্ডিস বা লিভার ও কিডনির সমস্যার চিকিৎসায় তেলাকুচা পাতার রসের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এসব সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।



