স্বাস্থ্য

পিজি হাসপাতাল-এর নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগে স্বল্প খরচে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সহজ নির্দেশিকা

স্বাস্থ্য ও সেবা ডেস্ক: রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)—যা সবার কাছে সাবেক পিজি হাসপাতাল নামে পরিচিত—সেখানকার নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও থেরাপি বিভাগ (পরমাণু ভবন) অত্যন্ত আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য উপায়ে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন বিশেষায়িত পরীক্ষা সেবা প্রদান করে থাকে। সাধারণ রোগীদের সুবিধার্থে এই বিভাগে টেস্ট করানোর একটি পূর্ণাঙ্গ ও সহজ গাইড নিচে তুলে ধরা হলো:

  • অবস্থান: বিএমইউ-এর ডি-ব্লকের ৮ম থেকে ১১ম তলা।
  • অফিস সময়: সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত।
  • রিপোর্ট ডেলিভারি: বিকেল ৩:০০ টা থেকে ৪:০০ টা পর্যন্ত।
  • ছুটির দিন: শুক্রবার, শনিবার এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বিভাগটি বন্ধ থাকে।

এই বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা ও রোগ নির্ণয় করা হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • থাইরয়েড স্ক্যান
  • বিভিন্ন হরমোন টেস্ট
  • কিডনি স্ক্যান (DTPA / EC), আল্ট্রাসাউন্ড (USG) ও TVS
  • বোন স্ক্যান (শরীরে ক্যন্সারের বিস্তার বা মেটাস্ট্যাসিস পরীক্ষা করতে)
  • হার্ট স্ক্যান
  • লিভার ও অন্যান্য অঙ্গের স্ক্যান
  • পেট-সিটি (PET-CT), বিএমডি (BMD), ভিটামিন ডি (Vitamin D)সহ অন্যান্য বায়োকেমিক্যাল ও ইমেজিং টেস্ট।

১. ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন: টেস্ট করানোর জন্য অবশ্যই রেজিস্টার্ড বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শপত্র বা প্রেসক্রিপশন থাকতে হবে।

২. সিরিয়াল বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট: সকল পরীক্ষার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন হয় না। তবে DTPA, EC, Bone Scan, PET-CT, BMD ও Doppler study-এর মতো বিশেষায়িত টেস্টগুলোর জন্য অবশ্যই পূর্বে এসে বা নির্দিষ্ট নিয়মে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা সিরিয়াল নিশ্চিত করতে হবে। সিরিয়াল নেওয়ার নির্ধারিত সময় সাধারণত সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

৩. টাকা জমা ও টেস্ট সম্পন্নকরণ: অ্যাপয়েন্টমেন্টের নির্ধারিত দিনে নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগে এসে হসপিটালের ব্যাংকে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে টেস্ট সম্পন্ন করা যাবে।

  • খালি পেট বা বিশেষ প্রস্তুতি: কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষার আগে রোগীকে খালি পেটে থাকতে হতে পারে কিংবা বিশেষ নিয়ম মেনে চলতে হয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময়ই সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ান বা কর্মীরা পরীক্ষার নিয়মকানুন বিস্তারিত বুঝিয়ে দেবেন।
  • সময়ের ব্যপ্তি: কিছু টেস্টে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় (২ থেকে ৪ ঘণ্টা বা পুরো দিন) লাগতে পারে।
  • গর্ভকালীন সতর্কতা: গর্ভবতী নারী কিংবা স্তন্যদায়ী মায়েদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা জরুরি। টেস্টের পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসককে এ বিষয়ে অবহিত করতে হবে।

বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর তুলনায় সরকারি এই ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষার খরচ অত্যন্ত কম। প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট বিলবোর্ডে প্রতিটি টেস্টের হালনাগাদ ও বিস্তারিত ফি চার্ট টাঙানো থাকে। এখানকার প্রতিটি রিপোর্ট দেশের সকল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট শতভাগ গ্রহণযোগ্য।

  • হাসপাতালের দীর্ঘ লাইন ও ভিড় এড়াতে সকাল সকাল বিভাগে উপস্থিত হওয়া শ্রেয়।
  • ডাক্তার দেখানোর সময় বা টেস্টের দিন আপনার পূর্ববর্তী সকল মেডিকেল রিপোর্ট ও প্রেসক্রিপশন সাথে রাখুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button