মাত্র ১০ টাকায় ঢাকা মেডিকেলে কোলরেক্টাল সার্জারি বিশেষজ্ঞ দেখানোর সুযোগ
স্বাস্থ্য ও সেবা ডেস্ক: পায়খানার সময় রক্তপাত, মলদ্বারে ব্যথা, জ্বালাপোড়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায় ভোগেন অথচ উচ্চ খরচের ভয়ে সঠিক চিকিৎসা করাতে পারছেন না—এমন রোগীদের জন্য দারুণ সুযোগ দিচ্ছে দেশের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)। নামমাত্র মূল্যে কোলরেক্টাল সার্জারি বিশেষজ্ঞ দেখানোর এই সুযোগটি সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
সেবা গ্রহণের সময় ও স্থান
- হাসপাতাল: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।
- বিভাগ ও কক্ষ: সার্জারি বহির্বিভাগ (৫ নম্বর কক্ষ)।
- প্রবেশপথ: শহীদ মিনার গেট দিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে হবে।
- টিকিট মূল্য: মাত্র ১০ টাকা (কাউন্টার থেকে কোলোরেক্টাল সার্জারির টিকিট সংগ্রহ করতে হবে)।
- দিন ও সময়: প্রতি সপ্তাহের রবি ও বুধবার, সকাল ৮:০০ টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা পর্যন্ত।
যে সমস্ত সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন
১. পাইলস বা হেমোরয়েডস (Hemorrhoids)
২. এনাল ফিশার (Anal Fissure)
৩. এনাল ফিস্টুলা (Anal Fistula)
৪. পায়খানার সময় রক্তপাত
৫. মলদ্বারে তীব্র ব্যথা, জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি
৬. মলদ্বারের আশপাশে ফোলা ভাব বা পুঁজ জমা হওয়া
৭. দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য ও মলত্যাগে জটিলতা
৮. মলদ্বারের অন্যান্য সার্জারিসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা
স্বল্পমূল্যে ল্যাব ও ইমেজিং পরীক্ষার সুবিধা
ডাক্তার দেখানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত কম খরচে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক টেস্ট করানোর সুযোগ রয়েছে:
- এন্ডোস্কপি: ৫০০ টাকা
- কোলোনোস্কপি: ১২০০ টাকা (অবশ্যই অগ্রিম সিরিয়াল নিতে হবে)
- সিবিসি (CBC): ১৫০ টাকা
- এসজিপিটি (SGPT / ALT): ৭০ টাকা
- সিরাম ক্রিয়েটিনিন (Serum Creatinine): ৫০ টাকা
- ইউরিন আরএমই (Urine R/M/E): ২০ টাকা
- লিপিড প্রোফাইল (Lipid Profile): ৩০০ টাকা
- সিরাম ইউরিক অ্যাসিড: ১০০ টাকা
- এসজিওটি (SGOT / AST): ৭০ টাকা
- ফাস্টিং ব্লাড সুগার (FBS): ৬০ টাকা
- এইচবিএওয়ানসি (HbA1c): ৩০০ টাকা
- অ্যান্টি-এইচসিভি (Anti-HCV): ৩০০ টাকা
- এইচবিএসএজি (HBsAg): ৩০০ টাকা
- এক্স-রে (X-Ray): ২০০ – ৪০০ টাকা
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG): ১১০ – ২২০ টাকা
প্রয়োজন সাপেক্ষে রোগীরা এখানে ভর্তি হয়ে সম্পূর্ণ স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় অপারেশন বা সার্জারি সম্পন্ন করতে পারবেন।
হাসপাতালে যাওয়ার পূর্বে কিছু জরুরি করণীয় ও টিপস
১. সকাল সকাল উপস্থিত হন: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রোগীর চাপ বেশি থাকায় যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে পৌঁছানো শ্রেয়।
২. সঠিক টিকিট সংগ্রহ: আউটডোর টিকিট কাউন্টার থেকে সার্জারি বিভাগের ১০ টাকার টিকিট সংগ্রহ করে ৫ নম্বর কক্ষে যোগাযোগ করুন।
৩. পূর্ববর্তী নথিপত্র: আপনার আগের কোনো প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট বা অন্যান্য মেডিকেল কাগজপত্র সাথে রাখুন।
৪. পোশাকের ক্ষেত্রে সতর্কতা: শারীরিক পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে, তাই আরামদায়ক ও ঢিলেঢালা পোশাক পরে আসুন। প্রয়োজনে সাথে লুঙ্গি রাখতে পারেন।
বিশেষ সতর্কতা: পায়খানার রাস্তায় রক্তপাত হওয়ার মানেই কেবল পাইলস নয়, এর পেছনে অন্য গুরুতর কারণও থাকতে পারে। তাই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে সেবন না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অতিরিক্ত রক্তপাত, মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।



