দেশ

সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি কারবারি চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার ৩

মাহবুব আলম মানিক (সাভার উপজেলা প্রতিনিধি): ঢাকার সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনাকারী তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর)। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে,এসব মোবাইল ব্যবহার করে বিন্যান্স অ্যাপের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং বিকাশ-নগদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হচ্ছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মাহবুব আলম (৪৯), মো. খোরশেদ আলম (৫০) ও জুনায়েদুল ইসলাম সিফাত (২০)। মাহবুব ও খোরশেদের বর্তমান ঠিকানা সাভারের মধুমতি মডেল টাউন। সিফাতের বাড়ি সাভারের মেলার টেক এলাকায়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে সাভারের মধুমতি মডেল টাউনের ফুড লাইব্রেরিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়,সোমবার রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ফুড লাইব্রেরির ভেতরে কয়েকজন অনলাইনভিত্তিক ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পরে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

ঢাকা জেলা ডিবি উত্তরের উপ-পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন নেতৃত্ব পরিচালিত অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের ব্যবহৃত তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হেফাজতে থাকা মোবাইল ফোনে বিন্যান্স (BINANCE) অ্যাপ পাওয়া গেছে। এসব অ্যাপের মাধ্যমে ইউএসডিটি (USDT) ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং বিকাশ-নগদের মাধ্যমে অর্থ জমা, স্থানান্তর ও উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের আইনগত বৈধতা এবং এ-সংক্রান্ত আর্থিক কার্যক্রমের অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সতর্কতা রয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঠিক কী ধরনের লেনদেন করছিলেন, তাঁদের কার্যক্রমের পরিধি কতটুকু এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button