অপরাধের স্বর্গরাজ্য চরফ্যাশন

0
446

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ২১ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বৃহৎ এলাকা বর্তমানে অপরাধীদের নিরাপদ অভয়ারণ্য হিসেবে স্বর্গরাজ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সন্ধ্যা নামতেই পাল্টে যায় চরফ্যাশনের আসল চেহারা। বিভিন্ন অলিগলি, খোলা মাঠ,স্কুল,মাদ্রাসার ছাদ, নবনির্মিত পার্কের পার্শ¦বতী রাস্তা মাদক সেবনের নিরাপদ স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে । এছাড়া নজরুল নগর ইউনিয়ন থেকে  জুয়ারীদের আটক করে অর্থ বানিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।  স্কুল ছাত্র থেকে যুব’রা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের খাতায় বড় বড় নেতাদের নামের তালিকা থাকলেও তারা অধরা হিসেবে রয়েছে। বিয়ষটি ওপেনসিক্রেট হলেও মামলা, হত্যা, গুম, হওয়ার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেনা। অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেড়িয়ে এসেছে।   ইয়াবা, মাদক,ধর্ষণ, স্কুল ছাত্রীকে বিস্কুট  দেওয়ার নামে তৃতীয় শ্রেনির এক ছাত্রীকে নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী তার কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ, অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে স্বামী স্ত্রী একই রশিতে গলায় ফাসঁ দিয়ে আতœহত্যা, গৃহবধুর আতœহত্যা,  বিষপান, জমি জমা বিরোধকে  কেন্দ্র করে লাঠিয়াল বাহিনী ভাড়া করে এনে  জোর পুর্বক জমি দখল, সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে পারিবাবিক ও রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার, প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসায় চাকুরী নিয়ে  বেতনভাতাদি ভোগ করলেও মাদ্রাসায় হাজির হননা,  চরফ্যাশনে এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। উপজেলার ৩টি থানার আওতায় আরো ৩টি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থাকলেও পুলিশের উপর এসব অপরাধীরা  মরিচের গুড়া  মেরে পিটিয়ে আহত করে অপরাধীরা পালিয়ে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটছে। হাসপাতাল ও পুলিশ সুত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।  সম্প্রতি শশীভুষণ থানার জোর মসজিদ এলাকা থেকে পুলিশ গাজাঁ সহ পারুল বেগমকে গ্রেপ্তার করলে তার স্বামী ইয়াবা ব্যবসায়ী ধরাছোয়ার বাহিরে রয়েছে।
চরফ্যাশন থানা পুলিশ জানান,  নীলকমল ইউনিয়নের চর যমুনায় মাদক ব্যবসায়ী শাহিনকে পুলিশ   গ্রেপ্তারের পর পুলিশের উপর মরিচের গুড়ি   মেরে, কামড়িয়ে হাতকড়া পড়া অবস্থায়  আসামী ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এতে সহকারী  ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম,গোবিন্দ, হাবিব, এএসআই শামিম, ও কনেষ্টবল পলাশ আহত হয়। পুলিশ বাদী হয়ে ২৮ জনকে জ্ঞাত এবং ৪০/৫০ জন কে অজ্ঞাত করে মামলা নং ৭ তারিখ ৬/৯/১৬ দায়ের করে।  মামলা দায়েরের পর এ সংবাদ  লেখা পযন্ত শাহিনকে আটক করতে পারেনি পুলিশ  । চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ ম. এনামূল হক আরো জানান, শাহিনের   বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ সে পলাতক ছিল। সংবাদ  পেয়ে আটক করতে  গেলে তাদের উপর হামলা চালিয়ে আবার পালিয়ে যায়।
সম্প্রতি শশীভূষণ থানা পুলিশের অভিযানে এক মহিলা মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। এস,আই গোলাম মাওলা নিশ্চিত করে বলেন,অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী কামালের স্ত্রী পারভীন ওরফে নূরতাজকে আটক করা হয়। এসময় নূরতাজের কাছে ১২ পিজ ইয়াবা ও ৭০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায় বলে তিনি জানান। স্থাণীয়রা জানান, আটক পারভীন  বেগম রুবেলের মাদকের পাইকার । এঘটনায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। উপজেলার তিন থানার পুলিশ জানান, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে  সোচ্ছার আছি। তথ্য পেলেই অভিযান পরিচালনা করি। এলাকাবাসীর অভিযোগ আমদানীকারকদের গডফাদাররা সবসময় ধরা  ছোয়ার বাহিরে থাকে। এদেরকে আটক করতে পারলে মাদকের আমদানী বন্ধ সহ বিভিন্ন অপরাধ কমে যেতে পারে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here