অবৈধ ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত সুপারের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0
522

বিশেষ প্রতিবেদক,বরগুনাঃ বরগুনার আমতলীর গুলিশাখালী দাখিল মাদ্রাসার অবৈধ ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত সুপারের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক এম এ ছোবাহান। ১১ ডিসেম্বর ১৯৭২ সনে সরকার এক চাকরী বিধি আইনের বলে সকল মাদ্রাসার আর্থিক, নিয়োগ ও যাবতীয় কার্যক্রমের দায়িত্ব মহাকুমা প্রশাসকের উপর ন্যস্ত করা হয়। কিন্তু এই আইনকে উপেক্ষা করে মাদ্রাসার নামে একটি অবৈধ কমিটি গঠন করে ঐ কমিটির মাধ্যমে উক্ত সহকারী শিক্ষক এমএ ছোবাহান সুপার হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন, যে কমিটিতে এমএ ছোবাহানও একজন সদস্য ছিল। অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে মহাকুমা প্রশাসকের অনুমোদন বিহীন অবৈধ ভাবে ম্যানেজিং কমিটি দেখিয়ে সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে সহকারী শিক্ষক এমএ ছোবাহান সুপার পদে কিভাবে নিয়োগ লাভ করলেন? তার এই অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে এ যাবৎ অসংখ্য লিখিত অভিযোগ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর করা হলেও তার কোন সুষ্টু বিচার হয়নি। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিক্ষকগণ লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগসহ অবৈধ নিয়োগ নিয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দাখিল করলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মোস্তফাকে তদন্তের জন্য আদেশ দেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত শেষে বিগত ৩১/১২/২০১৫ ইং তারিখ ১০টি ক্রমিক নম্বর সম্বলিত একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার প্রতিবেদনে ১ নং ক্রমিকে ৭/৩/২০০২ ইং তারিখে আপিল এন্ড আরবিট্রেশন কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে সুপার পদ হতে বরখাস্ত অনুমোদন করা হয়। এবং ২নং ক্রমিকে মাদ্রসা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন বিহীন কমিটি দ্বারা সুপার সাহেবকে পুনঃবহাল করা হয় যাহা আইনসিদ্ধ হয়নি। সুপার সাহেবের জন্ম তারিখ ১৯৭৮ সনের একটি বিল খাতায় দেখা যায় ৩১/০৩/১৯৫৫ ইং কিন্তু বিগত ২০১৫ সনের মার্চ মাসের এমপিও/ বিল ফর্মে দেখা যায় তার জন্ম তারিখ ০১/০৩/১৯৫৮ ইং তারিখ মূলতঃ তার ঐ জন্ম তারিখ হিসেবে তার চাকুরীর মেয়াদ ৬০ বৎসর অনেক পূর্বেই উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে।
একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যক্তি স্বাধীনতার পর থেকেই অদ্যাবধি প্রতিষ্ঠানটিতে বহাল তবিয়াতে চাকরী করে আসছেন এবং সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন ভাতাদি ভোগ করে আসছেন। শুধু তাই নয় তার এই চাকরী কালীন সময় মাদ্রাসার তহবিল, সরকারী বিভিন্ন অনুদান, মাদ্রাসার মঞ্জুরী নবায়নের কথা বলে শিক্ষক তহবিল হতে ২৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ, অবৈধভাবে ব্যাংকের সাথে যোগসাজসে করে যোগদানের পূর্বের ছয়মাসের বেতন ভাতাদি ৫২ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে, এবতেদায়ী শূন্য কোঠায় ২০১০ সনে মোটা অংকের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ দেন, উৎকোচ না দেয়ায় সহ-সুপার মোঃ আঃ মান্নানের টাইম স্কেল ফরোওয়ার্ডিং যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাননি। শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য টিউশন ফি ২০০৯-২০১৪ সন পর্যন্ত হাজার টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন, যা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এই ব্যক্তিটি উক্ত মাদ্রাসায় বহাল তবিয়তে চাকুরী করে আসছেন বলে এলাকাবাসী মাননীয় প্রধান মন্ত্রী এবং মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মোবাইলে(০১৭১৮০৪১৪৫২) জানিয়ে ছিলেন, আমতলী নির্বাহী অফিসার বরাবর শিক্ষকগণ অভিযোগ করলে মহোদয় আমাকে সরেজমিন তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব এবং তদন্ত প্রতিবেদনটি আমাকে দেন। তদন্ত করে দেখা যায়, সুপার নিয়োগটি ভূয়া আরো জবাবে বলেন  কি ভাবে সে যুগের পর ঘুগ সুপার পদে বহাল তবিয়াতে চাকরী  করেছেন তা আমার জানা নেই।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here