আটকে থাকা পানি সরতেই ভাঙন লক্ষ্মীপুরে হুমকির মুখে বাজারসহ প্রস্তাবিত নৌ-বন্দর

0
447

আতোয়ার রহমান মনির,লক্ষ্মীপুর
বৃষ্টি ও জমে থাকা পানি সরতেই লক্ষ্মীপুরের রহমতখালি নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।ফলে প্রধানমন্ত্রীর সদ্য ঘোষিত প্রস্তাবিত মজুচৌধুরীরহাট নৌ-বন্দরটিসহ মৎস্য ঘের,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,বাজার ও সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ভাঙ্গন হুমকিতে। এখন সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গন প্রকট আকার ধারণ করছে সদর উপজেলার রহমতখালী নদী ও ওয়াপদার খালটি। এদিকে রহমত খালী নদী ভাঙ্গনে ৫’শ একর জমি নদী গর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। মেঘনার তীর রক্ষাসহ রহমতখালী নদী ভাঙ্গনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছেন,অতিবৃষ্টিতে জমে থাকা পানি সরতে নোয়াখালী,লক্ষ্মীপুর হয়ে রহমতখালী নদী দিয়ে প্রবল বেগে ¯্রােতের কারণে এ ভাঙন। এ অবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে পাথর বাঁধ দেয়া হলে রক্ষা পেতে পারে ভাঙন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড লক্ষ্মীপুর জেলা অফিস সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী-কুমিল্লা জেলার একমাত্র পানি সরবরাহের পথ লক্ষ্মীপুরের রহমতখালী নদীটি। বৃষ্টি ও জমে থাকা পানি সরতেই প্রবল¯্রাোতে রহমতখালী নদীর ভাঙন দেখা দেয়। এতে সদর উপজেলার মেঘনার সংযোগ রহমতখালী নদী ও ওয়াপদাখালের আইয়ুব আলীর পোল থেকে মজুচৌধুরীরহাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকা ভাঙ্গনে লক্ষ্মীপুরের চররমনী মোহন,কালিরচর এলাকাসহ দশ কিলোমিটার ভাঙনের মুখে পড়ে। ইতিপূর্বে ৫শ হেক্টর জমি বিলীন হয়েছে। ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও গাছপালা। এসব এলাকার প্রায় কয়েক হাজার পরিবার ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে বহু মানুষ।সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,মজুচৌধুরীর বেঁড়ীবাঁধ ভাঙ্গনের ফলে বর্তমানে  প্রস্তাবিত নৌ-বন্দর ও পানি নিষ্কাশনের রেগুলেটর বর্তমানে ভাঙন হুমকিতে।
স্থানীয় ব্রাক স্কুল ছাত্রী সালমা আক্তার বলেন,আমাদের কালির চর এলাকায় ব্রাক এর দুটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,একটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসাসহ দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।এখানকার জনপ্রতিনিধিরা ভাঙ্গনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় রহমত খালীর রহমত বিলীন হতে চলেছে। ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানায় সে।
সদর উপজেলার কালির চর গ্রামের ভাঙনের শিকার শামছুল হক,তাজুল ইসলাম,শফিক উল্লাহ্সহ অনেকেই জানান,কিছুদিন আগে রহমত খালী নদীর পানি কম ছিল,তখনই ভাঙন শুরু হয়। বিষয়টি তারা
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীসহ স্থানীয় লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনের  এমপি নোমান হোসেনকে জানান তারা। গত এক বছরে ভাঙ্গন রোধের প্রতিকার করা হয়নি বলে জানান তারা।
একই এলাকার এডভোকেট হারুন অর রশিদ জানান,‘কয়েক বছর ধরে কালির চরএলাকায় ভাঙন চলছে। এতে শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারা হয়ে গেছে। ভাঙন রোধের জন্য বিভিন্ন স্থানে দরখাস্ত দিয়েছেন তারা। বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের শুধু প্রতিশ্রুতি ছাড়া কোনো ভাঙ্গন প্রতিকারে বাস্তবায়ন দেখেন নাই বলে জানান।
মজুচৌধুরীর হাট এলাকার মৎস্য খামারী মোহাম্মদ আমিন জানান,রহমত খালী নদী হয়ে পানি সরতেই মজুচৌধুরীর ভিতরে বেঁড়ি বাঁধে ভাঙ্গনের ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে। হুমকিতে রয়েছে তার অর্ধ কোটি টাকার চাষকৃত মাছসহ মৎস্য চাষের ঘের ।
সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউপি চেয়ারম্যান ইউছুফ ছৈয়াল জানান,লক্ষ্মীপুর বাসীর জন্য এক সময় রহমত খালী নদী ছিল জমে থাকা পানি সরানোর রহমত। এখন তিনটি জেলার পানি সরতেই রহমত খালী নদীর ভাঙনে অভিশাপে পরিণত। পানি সরতেই স্রোতের তোড়ে ভাঙছে বাড়িঘরসহ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাও। ভাঙ্গনের ফলে এলাকার গরীব-অসহায় ও বেকারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।ভাঙ্গন রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান জানান,আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২০ বছর পর চলতি বছর ১৪ মার্চ লক্ষ্মীপুরে আসেন। তখন প্রধানমন্ত্রী মজুচৌধুরীর হাট কে নৌ-বন্দর ঘোষণাসহ ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ২০টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নোমান জানান,ইতিমধ্যে ৫০ কোটি টাকা নদী ভাঙ্গন রোধে রায়পুর উপজেলার মোল্লার হাট থেকে শুরু করে সদর উপজেলার টুমচর পর্যন্ত নদী ভাঙ্গন রোধে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। এখন পাওয়ার অপেক্ষা শুধু। পেলে আগামী বছর ভাঙ্গনরোধে কাজ করা হবে এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে  বলে জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকেীশলী গাজি ইয়ার আলী জানান,কুমিল্ল্,ালাকসাম, নোয়াখালীর পানি লক্ষ্মীপুর রহমত খালী নদী হয়ে মজুচৌধুরীরহাট মেঘনা নদীতে প্রবাহিত হয়। গত বছরের তুলনায় এবার প্রস্তাবিত নৌ-বন্দর মজুচৌধুরীরহাট এলাকার বেঁড়ি বাঁধসহ টুমচর,কালির চর এলাকা ইতিমধ্যে ভাঙ্গনরোধে প্রকল্প দেখানো হয়েছে। প্রকল্প পেলে  কাজ শুরু করা হবে।এছাড়া রামগতির ১ শত ৯৮ কোটি টাকা কাজের ৩.৫ কি:মি: বাঁধ নির্মাণ কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শেষ হয়। নেীবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাকী দুইটি কাজ কমলনগরে ১ কি:মি: এ বছরের শেষের দিকে শেষ হবে এবং রামগতির বড় খেরী এলাকার ১ কি:মি: কাজটি আগামী বছর শেষ হবে। এ প্রকল্প শেষ হলে ২য় পর্যায়ে ৪শ কোটি টাকার কাজ পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here