উত্তরায় বায়িং হাউজের ব্যবসার আড়ালে মাসুদ সিন্ডিকেট বেপরোয়া

0
2558

স্টাফ রিপোটারঃ কাপড় ব্যবসার ছদ্মবরনে ভয়ঙ্কর সব অপরাধ করে যাচ্ছে কুষ্টিয়া থেকে আগত মহিবুল ইসলাম (মাসুদ), পিতা-মোঃ রঞ্জন আলী, মাতা-মহিরা খানম, তিনি একাধিক ডাকাতি থেকে শুরু করে সন্ত্রসী, চাদাবাজী, করে বেড়ায় উত্তরায়। বর্তমানে মেরজান ইন্ডাষ্ট্রি নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালিয়ে আসছে দীর্ঘ দিন যাবৎ উত্তরা ১১নং সেক্টর ১২ নং রোড ৩৬ নং বাড়ীতে ২য় তলা। এ যেন কোন অফিস নয় বরং মিনি পতিতালয় ও মাদকের হাট। প্রশাসনের সাথে আতাত করে এলাকায় মুর্তিমান আতঙ্ক হয়েছে কুখ্যাত এই সন্ত্রাসী। সম্প্রতিক সময়ে নাসিমা আক্তার সুইটি নামের একটি মেয়ে তার ভারাটে এক ক্যাডার এর সাথে বিয়ে দেন পরবর্তিতে দুই মাস পর চাঁদাবাজী করার জন্য তাকে তালাক দিয়ে ৬ লক্ষ টাকা আদায় করে মাসুদ। ঐ টাকা সুইটি চাইতে গেলে তাকে ভয়-ভিতি দেখায়, এবং এক পর্যায় নাসিমা তার টাকার জন্য উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটির আইও ছিলেন এস.আই শাহ ফরিদ। অভিযোগ দেওয়ার পর রাতে তাকে তার ক্যাডার বাহিনী দ্বারা পাহারা দিয়ে উত্তরা ৫নং সেক্টর হতে গ্রেপ্তার করান। থানা পুলিশ মোটা অংকের টাকা খেয়ে তাকে ছেড়ে দেন। মাসুদ এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকার পরও উত্তরায় দম্ভ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, এতে করে এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরী হয়েছে বলে উত্তরার আবাসিক নগরীর একটি সূত্রে জানা গেছে। মাসুদ এর জাতীয় পরিচয় পত্রের ঠিকানা খালেদা জিয়ার গুলশান এর বাড়ীর। শুধু তাই নয় তার উত্তরার অফিসে গোপন জামাত ও শিবির এর মিছিল মিটিং হয়। ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে উত্তরা কর অঞ্চল-১০ এর কমিশনার তদন্ত করার জন্য একটি টিম পাঠিয়েছেন। কুখ্যাত সন্ত্রসী মাসুদ খুবই ভয়ঙ্কর এক সিন্ডিকেট বলে জানা যায়। তৎকালীন বিএনপির সময় জ্বালাও পোড়াও সকল রকম অর্থ, ক্যাডার সহ গোলা বারুদ দিয়েছিলো বলে জানান তার অফিসের এক কর্মচারী। সেই সাথে মাদক ব্যবসা করেও বর্তমানে সে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন এর লোক বলে পরিচয় দেন। কখনো কখনো সে নির্বাচন পরিচালনা করেছে বলে থাকে। তার রয়েছে উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে এক ঝাক ক্যাডার বাহিনী। তার বাসায় আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে সন্ত্রাসীদের মালামাল কম টাকায় কিনে বেশী টাকায় বিক্রয় করে। উত্তরার সমাজের লোকজন বলেছেন মাসুদ বায়িং হাউজ এর আড়ালে সকল প্রকার আন্ডার ওয়ার্ল্ড এর কাজের সাথে জড়িত রয়েছে। তার ফেসবুকে নগ্ন নাচ ও মেয়েদেরকে নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ ও নানবিধ অপরাধের সাথে জড়িত থাকার প্রমান এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ এর বাদী তানিয়া আক্তার সুইটি বলেন আমি জানি মাসুদ কেমন প্রকৃতির লোক।  ভিন্ন সময়ে মেয়েদেরকে তার অফিসে চাকরী দেওয়ার নাম করে এক সপ্তাহ বা ১ মাস ব্যবহার করে তার হাতে থাকা একটা অবৈধ পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা পয়সা তো দুরের কথা তাদের সম্মান নিয়ে খেলা করে যেমনটি করেছে আমার সাথে। আমার ডিভোর্সের আগে আমাকে  কুপ্রস্তাব দেয়। আমি তাতে রাজি না হলে আমার সর্বনাশ ঘটাবে বলে হুমকি দিয়ে আমার স্বামীকে ভুল বুঝিয়ে আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার পরিকল্পনা করে তিনি। কাবিন নামা ছিল ১০ লক্ষ টাকা, মাসুদ ৭ লক্ষ টাকা নেওয়ার কথা ছিল পরবর্তীতে ৬ লক্ষ আশি হাজার টাকা নেওয়া হয়। আমি রাত অনেক বলে তার কাছে বিশ্বাস করে টাকা গচ্ছিত রেখেছি। আর বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য বিশ হাজার টাকা নিয়ে যাই। সকালে তার মুঠো ফোনে বার বার ফোন করলে আর রিসিপ করে না। পরবর্তিতে আইনের আশ্রয় নিলে থানা পুলিশ আমার সাথে বে-আইনী কাজ করে মাসুদ ২ লক্ষ টাকা দেন পুলিশকে। আমার টাকা দিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করেন মাসুদ। তবে সুইটি আরো জানান ও বেশী দিন বাংলাদেশে থাকবে না। ওর সাথে দেশের বাইরের একটি চক্র  জড়িত আছেন। তাহলে কি মাসুদ আন্তজার্তিক অপরাধ চক্র আই এস এর সাথে যুক্ত। তবে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাসুদ তার নতুন কোম্পানী ফ্যাশন মাট প্রাইভেট লি: কোম্পানী শুরু করে কোরবানী ঈদের পরে মালেশিয়া যাওয়ার জন্য সব কিছু খোজ করেছে বলে জানা যায়।  শুধু তাই নয় প্রায় ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি প্রইভেট কোম্পানীকে তার এই ব্যবসাটা কিছুটা গুছিয়ে নিয়েছে বলে অন্যসব ব্যবসায়ীদের কাছে জানা যায়। শুধু মাসুদকে ঐ তরুনী নয় স্থানীয় এক আলোকিত সকালের সাংবাদিক মিরাজ সিকদার বলেন, আমার জীবনে অনেক রকম খারাপ লোক দেখেছি কিন্তু মাসুদের মত মাদকাসক্ত লোক আজও দেখিনি। তবে মাসুদ শুধু যে বায়িং হাউজ এর ব্যবসা করে তাই না। তার কাপড় ব্যবসার আড়ালে আছে বিশাল এক সিন্ডেকেট বাহিনী। শুধু তাই নয় মাদক ও চোরা কারবারের সাথে জাড়িত হয়ে পরেছেন দীর্ঘ দিন যাবৎ। যার ফলে উত্তরার প্রতিটি মানুষ মাসুদ বাহিনীর ভয়ে মাথা নিচু করে থাকে। শুধু সাংবাদিকরাই নয় তার পক্ষে কাজ করে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ কর্মকর্তারা। এই মাসুদ এর বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ হলো উত্তরা পশ্চিম থানার সোর্স হিসাবে পরিচিত, সেই সূত্রে মাসুদ সাধারন মানুষকে মামলার ভয় দেখিয়ে উত্তরার ১১নং সেক্টর রাজউক এর নতুন বাজার থেকে পজিশন বিক্রির নামে চাঁদাবাজী করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য হয়রানির ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়নী। আর সে প্রকাশ্যে বলে বেড়ায় যে মুখ খুলবে তাকে পরপাড়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। জন শ্রুতি রয়েছে উত্তরা পশ্চিম থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা এক অনুষ্ঠানে এই মাসুদকে ভাই বলে পরিচয় করে দিলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here